জুমার দিনে যে আমলে মিলবে উট কোরবানি করার সমতুল্য সাওয়াব
প্রতীকী ছবি
জুমার দিন মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি দিন। এ দিনের বিশেষ কিছু আমল রয়েছে, যার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও বিপুল সাওয়াব অর্জন করা যায়। এর মধ্যে একটি হলো জুমার নামাজে আগে আগে মসজিদে উপস্থিত হওয়া। হাদিসে এ আমলের সাওয়াব উট কোরবানি করার সমতুল্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জুমার নামাজে মসজিদে আগে যাওয়ার ফজিলত:
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন প্রথম সময়ে গোসল করে মসজিদে যায়, সে যেন একটি উট কোরবানি করল। দ্বিতীয় সময়ে গেলে যেন একটি গরু কোরবানি করল। তৃতীয় সময়ে গেলে যেন শিংওয়ালা একটি দুম্বা কোরবানি করল। চতুর্থ সময়ে গেলে যেন একটি মুরগি দান করল। আর পঞ্চম সময়ে গেলে যেন একটি ডিম দান করল। এরপর ইমাম যখন খুতবা দেওয়ার জন্য বের হন, তখন ফেরেশতারা উপস্থিত হয়ে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনেন। ( সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮১০)
কীভাবে পাওয়া যাবে এই সাওয়াব?
জুমার দিনে উট কোরবানি করার সমতুল্য সাওয়াব অর্জনের জন্য নির্ধারিত সময়ের প্রথম দিকে মসজিদে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। গোসল করে, পরিচ্ছন্ন পোশাক পরে এবং সুগন্ধি ব্যবহার করে মসজিদে যাওয়া উত্তম। মসজিদে গিয়ে নফল নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকিরে সময় কাটানো যায়। খুতবা শুরু হওয়ার আগেই মসজিদে পৌঁছানোর চেষ্টা করা উচিত। খুতবা শুরু হলে মনোযোগ দিয়ে তা শুনতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে বিরত থাকতে হবে।
সময়ের বিষয়ে সতর্কতা:
হাদিসে জুমার দিন মসজিদে উপস্থিত হওয়ার পাঁচটি পর্যায়ের কথা বলা হয়েছে। তবে এই পর্যায়গুলোকে ঘড়ির নির্দিষ্ট সময় ধরে নেওয়া ঠিক নয়। মূল শিক্ষা হলো, জুমার নামাজের জন্য যত আগে সম্ভব মসজিদে উপস্থিত হওয়া।
মনে রাখতে হবে, এখানে উট কোরবানি করার সমতুল্য সাওয়াবের কথা বলা হয়েছে; প্রকৃতপক্ষে উট কোরবানি করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তাই জুমার দিনের এই ফজিলত অর্জনের জন্য আগে আগে মসজিদে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।]
বিভি/এনএইচ/এমআর













মন্তব্য করুন: