• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

জুমার খুতবার সময় যে ভুলে নষ্ট হয় গুরুত্বপূর্ণ আমল

প্রকাশিত: ১২:৫৪, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
জুমার খুতবার সময় যে ভুলে নষ্ট হয় গুরুত্বপূর্ণ আমল

এআই জেনারেটেড ছবি

জুমার দিন মসজিদে গিয়ে ইমামের খুতবা শোনা মুসল্লিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু খুতবা চলাকালে অনেকেই কথা বলেন, মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন কিংবা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন। এসব আচরণ খুতবার প্রতি মনোযোগ নষ্ট করে এবং গুরুত্বপূর্ণ সওয়াব থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ হতে পারে। অথচ সামান্য সচেতনতা থেকেই এ ধরনের ভুল এড়িয়ে চলা সম্ভব।

খুতবার সময় কথা বললে কী হয়?

ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় কথা বলা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে হাদিসে বিশেষ সতর্কতা এসেছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ‘জুমার দিন ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় তুমি যদি তোমার সঙ্গীকে বলো, চুপ করো, তাহলেও তুমি অনর্থক কাজ করলে।’( সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৩৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫১)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, খুতবার সময় অন্যকে চুপ থাকতে বলার মতো কথাও এড়িয়ে চলা উচিত। তাই খুতবা চলাকালে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা জরুরি।

খুতবার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার

বর্তমানে মসজিদে খুতবা চলাকালে অনেক মুসল্লিকে মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখেন, কেউ বার্তা পড়েন, আবার কেউ অন্য কাজে মনোযোগ দেন। এতে খুতবা শোনার একাগ্রতা নষ্ট হয়। তাই খুতবা শুরু হওয়ার আগেই মোবাইল ফোন নীরব করে রাখা এবং এ সময় ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত। এতে খুতবার প্রতি মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।

খুতবার সময় অন্য কাজে ব্যস্ত থাকা

খুতবা চলাকালে অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া, পাশের মুসল্লির সঙ্গে ইশারায় কথা বলা কিংবা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকাও মনোযোগ নষ্ট করতে পারে। এ সময় শান্তভাবে বসে ইমামের বক্তব্য শোনার চেষ্টা করা উচিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে অজু করে জুমার নামাজে আসে, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে এবং চুপ থাকে, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত গুনাহ ক্ষমা করা হয়, অতিরিক্ত তিন দিনের গুনাহসহ। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৭)

দেরিতে এসে মুসল্লিদের বিরক্ত করা

জুমার খুতবা শুরু হওয়ার পর মসজিদে এসে অন্য মুসল্লিদের ঘাড় ডিঙিয়ে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়। এতে অন্যদের কষ্ট হয় এবং খুতবার মনোযোগ নষ্ট হতে পারে। তাই আগে আগে মসজিদে পৌঁছানো এবং অন্য মুসল্লিদের অসুবিধা না করে বসার জায়গা খুঁজে নেওয়া উত্তম।

খুতবার সময় কী করবেন?

খুতবা শুরু হওয়ার আগেই মসজিদে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন। মোবাইল ফোন নীরব রাখুন। খুতবা চলাকালে অপ্রয়োজনীয় কথা বলা ও অন্য কাজে ব্যস্ত থাকা থেকে বিরত থাকুন। ইমামের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনুন এবং তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করুন।

জুমার খুতবা কেবল একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়; এটি দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তাই খুতবার সময় সামান্য অসতর্কতাও যেন মনোযোগ নষ্ট না করে, সে বিষয়ে প্রত্যেক মুসল্লির সচেতন থাকা প্রয়োজন।

বিভি/এনএইচ/এমআর

মন্তব্য করুন: