স্ত্রীকে অবহেলা করছেন? স্বামীর দায়িত্ব সম্পর্কে কী বলেছে ইসলাম
ছবি: সংগৃহীত
সংসার শুধু ভালোবাসার বন্ধন নয়, এটি দায়িত্ব, সম্মান ও পারস্পরিক বিশ্বাসের সম্পর্ক। ইসলামে স্ত্রীকে ভালোবাসা, তার অধিকার রক্ষা করা এবং তার সঙ্গে সুন্দর আচরণ করাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একজন স্বামীর দায়িত্ব শুধু পরিবারের ভরণপোষণ নিশ্চিত করা নয়, বরং স্ত্রীর মানসিক প্রশান্তি ও সম্মান বজায় রাখাও তার কর্তব্য।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তাদের সঙ্গে তোমরা সদ্ভাবে জীবনযাপন করো।’ (সুরা আন-নিসা, আয়াত ১৯)। এই নির্দেশনার মাধ্যমে স্ত্রীর সঙ্গে সুন্দর আচরণ করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
ইসলামে স্ত্রীর অন্যতম অধিকার হলো ভরণপোষণ। স্বামীর সামর্থ্য অনুযায়ী স্ত্রীর খাবার, পোশাক, বাসস্থান ও প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার বহন করা তার দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে অবহেলা করা কিংবা স্ত্রীকে অযথা কষ্ট দেওয়া ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী।
স্ত্রীর প্রতি ভালো আচরণও স্বামীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, অনুভূতির মূল্য দেওয়া, ভুল হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা এবং পারিবারিক সিদ্ধান্তে তার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া একটি সুন্দর দাম্পত্য সম্পর্কের ভিত্তি।
এ বিষয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৩৮৯৫)।
এ ছাড়া স্ত্রীর সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তার ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষা করা এবং দ্বীনি জীবনে সহযোগিতা করাও স্বামীর দায়িত্বের অংশ। কোনোভাবেই নির্যাতন, অপমান কিংবা অন্যায় আচরণকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসারে ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখতে স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। তবে ইসলামে স্বামীর ওপর অর্পিত দায়িত্বগুলো যথাযথভাবে পালন করা একটি শান্তিপূর্ণ পরিবার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তাই একজন আদর্শ স্বামী তিনিই, যিনি শুধু পরিবারের দায়িত্ব বহন করেন না, বরং স্ত্রীর অধিকার রক্ষা করেন, তার সুখ-দুঃখের সঙ্গী হন এবং ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী তার সঙ্গে সুন্দর আচরণ করেন।
বিভি/এনএইচ













মন্তব্য করুন: