• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

যে ৩টি অভ্যাস আখিরাতের মুক্তির পথে সহায়ক হতে পারে

প্রকাশিত: ১৭:২২, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
যে ৩টি অভ্যাস আখিরাতের মুক্তির পথে সহায়ক হতে পারে

ছবি: সংগৃহীত

আখিরাতে সফলতা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন প্রত্যেক মুমিনের প্রত্যাশা। ইসলামে এমন কিছু আমল ও অভ্যাসের কথা বলা হয়েছে, যা মানুষের ঈমান মজবুত করতে, গুনাহ থেকে দূরে থাকতে এবং পরকালের জীবনের জন্য প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করে। নিয়মিত নামাজ আদায়, মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ এবং বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করার অভ্যাস হতে পারে সেই প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নিয়মিত নামাজ আদায়
ইসলামের অন্যতম প্রধান ইবাদত নামাজ। এটি মানুষকে আল্লাহর স্মরণে রাখে এবং অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকতে সাহায্য করে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সুরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ৪৫)
তাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায় করা এবং নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার অভ্যাস একজন মুমিনের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ
আখিরাতের প্রস্তুতি শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের অধিকার রক্ষা ও উত্তম আচরণও ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, প্রতিবেশীর খোঁজখবর নেওয়া, অসহায় মানুষকে সাহায্য করা এবং কাউকে কষ্ট না দেওয়ার চেষ্টা একজন মুমিনের চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০৩৫)
তাই মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করা এবং কারও অধিকার নষ্ট হলে তা ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা আখিরাতের জন্য প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নিয়মিত তওবা ও ইস্তিগফার করা
মানুষ ভুল ও গুনাহ করতে পারে। তবে ভুলের পর আল্লাহর কাছে ফিরে আসা, অনুতপ্ত হওয়া এবং গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করা মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ গুণ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা করো।’ (সুরা আত-তাহরিম, আয়াত: ৮)

তাই প্রতিদিন নিজের কাজের হিসাব নেওয়া, ভুলের জন্য ক্ষমা চাওয়া এবং পুনরায় সেই গুনাহে না ফেরার সংকল্প করা উচিত। তবে কারও অধিকার নষ্ট করে থাকলে শুধু ইস্তিগফার নয়, যথাসম্ভব সেই অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া বা ক্ষতিপূরণ করাও জরুরি।

আখিরাতের প্রস্তুতি শুরু হোক আজ থেকেই
আখিরাতের মুক্তি কোনো একটি অভ্যাসের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে যায় না। বরং বিশুদ্ধ ঈমান, আল্লাহর রহমত লাভের আশা, ফরজ ইবাদত পালন, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং মানুষের অধিকার রক্ষার সমন্বয়ে একজন মুমিন নিজের পরকালীন জীবনের প্রস্তুতি নেন।
তাই প্রাত্যহিক জীবনে নামাজ, উত্তম আচরণ ও তওবার অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে হেদায়াত ও ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। ছোট ছোট ভালো কাজের ধারাবাহিকতাও একজন মানুষকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথে এগিয়ে নিতে পারে।

বিভি/এনএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত