আদম (আ.)-এর আগে কি পৃথিবীতে ছিলো অন্য কেউ!
ছবি: সংগৃহীত
মানুষ সৃষ্টির আগে পৃথিবীতে কাদের বসবাস ছিলো? আদম (আ.)-এর আগেই কি পৃথিবীতে এসেছিলো জিনরা? কোরআন ও নির্ভরযোগ্য হাদিসে এ বিষয়ে কী বলা আছে?
পবিত্র কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, মহান আল্লাহ মানুষ সৃষ্টির আগেই জিন জাতিকে সৃষ্টি করেছেন। তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে আগুনের শিখা থেকে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরনের সুরা হিজর এর ২৭ নাম্বার আয়াতে বলেন, ‘আর জিনকে এর আগে সৃষ্টি করেছি উত্তপ্ত আগুনের শিখা থেকে।’ অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আর জিনকে সৃষ্টি করেছেন নির্ধূম আগুনের শিখা থেকে।’ (সুরা আর-রহমান, আয়াত: ১৫)
এ থেকে স্পষ্ট হয়, জিন জাতির সৃষ্টি মানবজাতির আগে। তবে আদম (আ.)-এর আগে জিনরা পৃথিবীতে কীভাবে বসবাস করত, তাদের জীবনযাপন কেমন ছিল কিংবা তাদের মধ্যে কী ধরনের ঘটনা ঘটেছিল, সে বিষয়ে কোরআন ও সহিহ হাদিসে বিস্তারিত বিবরণ নেই।
জিনদের আগে কি হিন ও বিন নামে কোনো জাতি ছিল? ইসলামি ইতিহাস ও কিছু তাফসিরের গ্রন্থে আদম (আ.)-এর আগে পৃথিবীতে হিন ও বিন নামে দুটি জাতির বসবাসের কথা উল্লেখ পাওয়া যায়। কিছু বর্ণনায় বলা হয়েছে, তাদের পর জিনরা পৃথিবীতে বসবাস শুরু করে।
তবে এসব বর্ণনার পক্ষে কোরআন কিংবা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কোনো সহিহ হাদিস নেই। নির্ভরযোগ্য সনদেও এ কাহিনী প্রতিষ্ঠিত নয়। তাই হিন ও বিন নামে দুটি জাতি পৃথিবীতে বসবাস করত কিংবা তারা পানি ও বাতাস দিয়ে তৈরি ছিল, এমন দাবিকে ইসলামের অকাট্য তথ্য হিসেবে প্রচার করা সঠিক নয়।
কিছু তাফসির ও ঐতিহাসিক বর্ণনায় পাওয়া যায়, আদম (আ.)-এর আগে জিনরা পৃথিবীতে বসবাস করত। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অবাধ্যতা, সংঘাত ও রক্তপাতের মতো কাজে জড়িয়ে পড়েছিল। এ কারণে ফেরেশতারা তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছিলেন বলেও কিছু বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।
তবে এসব ঘটনার বর্ণনা ও সনদ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তাই জিনদের মধ্যে সংঘাতের ঘটনা, ফেরেশতাদের অভিযান কিংবা তাদের ব্যাপকভাবে ধ্বংস করার কাহিনীকে নিশ্চিত ও সর্বসম্মত ইসলামী ইতিহাস বলা যায় না।
ইবলিশের পরিচয় সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে স্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে। সে ফেরেশতা ছিল না; বরং জিনদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সে ছিল জিনদের একজন। অতঃপর সে তার রবের নির্দেশ অমান্য করল।’ (সুরা আল-কাহফ, আয়াত: ৫০)
তবে কিছু ঐতিহাসিক বর্ণনায় ইবলিশের আগের নাম, তার ইবাদত এবং ফেরেশতাদের মধ্যে তার অবস্থান সম্পর্কে বিভিন্ন কাহিনি পাওয়া যায়। কিন্তু সে ছোটবেলায় ফেরেশতাদের হাতে রক্ষা পেয়েছিল, এক আসমান থেকে অন্য আসমানে গিয়ে ইবাদত করেছিল কিংবা ফেরেশতাদের শিক্ষক হয়েছিল, এসব বিস্তারিত ঘটনা নির্ভরযোগ্য দলিলে প্রমাণিত নয়।
মহান আল্লাহ যখন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করলেন, তখন ফেরেশতাদের প্রতি তাকে সিজদা করার নির্দেশ দিলেন। আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতারা সিজদা করলেও ইবলিশ অহংকারবশত তা করতে অস্বীকার করে।
ইবলিশ যুক্তি দেখায়, তাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে আর আদমকে মাটি থেকে। তাই সে আদমের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। পবিত্র কোরআনে এ ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। সুরা আল-আ'রাফের ১১ ও ১২ নম্বর আয়াতে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
ইবলিশের এই অহংকার ও অবাধ্যতার কারণে আল্লাহ তাকে অভিশপ্ত ও বিতাড়িত করেন। অভিশপ্ত হওয়ার পর ইবলিশ আল্লাহর কাছে পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত অবকাশ প্রার্থনা করে। আল্লাহ তাকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দেন।
আদম (আ.)-এর আগে জিন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছিল, এ বিষয়ে কোরআনের স্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে। কিন্তু জিনদের আগের হিন ও বিন জাতি, তাদের ধ্বংস কিংবা ইবলিশের শৈশব ও আসমান ভ্রমণের কাহিনি নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রতিষ্ঠিত নয়। তাই এসব বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়ার পরিবর্তে কোরআন ও সহিহ হাদিসে যতটুকু বর্ণিত হয়েছে, ততটুকুই বিশ্বাস ও প্রচার করা উচিত।
বিভি/এনএইচ













মন্তব্য করুন: