পাত্রী নির্বাচনে সৌন্দর্য নয়, যে গুণকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন নবীজি (সা.)
ছবি: সংগৃহীত
বিয়ে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। তাই জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য কিংবা সম্পদ নয়, বরং এমন কিছু গুণ বিবেচনায় রাখা জরুরি, যা দাম্পত্য জীবনকে সুন্দর ও স্থায়ী করতে সহায়তা করে। এ বিষয়ে পুরুষদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাধারণত চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে বলেছেন নারীর দ্বীনদারিকে।
ইসলামের দৃষ্টিতে একজন নারীকে বিয়ের ক্ষেত্রে চারটি কারণে পছন্দ করা হতে পারে। সেগুলো হলো:
১. সম্পদ: অনেকেই আর্থিক সচ্ছলতা বিবেচনা করে পাত্রী নির্বাচন করেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ও সম্পদকে কেউ কেউ বিয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।
২. বংশমর্যাদা: পরিবারের পরিচিতি, বংশমর্যাদা ও সামাজিক অবস্থান বিবেচনা করেও অনেকে জীবনসঙ্গী নির্বাচন করেন।
৩. সৌন্দর্য: মানুষের স্বাভাবিক আকর্ষণের একটি বিষয় হলো সৌন্দর্য। তাই পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাহ্যিক সৌন্দর্যকেও অনেকে গুরুত্ব দেন।
৪. দ্বীনদারি: একজন নারীর ঈমান, আমল, চরিত্র ও আল্লাহভীতি তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ গুণ। ইসলামে পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই গুণটিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘চারটি বিষয় দেখে কোনো নারীকে বিয়ে করা হয়: তার সম্পদ, বংশমর্যাদা, সৌন্দর্য ও দ্বীনদারি। সুতরাং তুমি দ্বীনদার নারীকে বেছে নাও। তাহলে তুমি সফল হবে।’ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন আবু হুরায়রা (রা.)। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৯০; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৪৬৬)
দ্বীনদার পাত্রীকে কেন অগ্রাধিকার?
ইসলামে দ্বীনদারিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অন্যতম কারণ হলো, একজন দ্বীনদার মানুষ আল্লাহর বিধান মেনে চলার চেষ্টা করেন। তিনি দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক অধিকার, দায়িত্ব, সততা ও উত্তম আচরণের বিষয়ে সচেতন থাকেন। পাশাপাশি সন্তানদের ইসলামী আদর্শে গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
তবে দ্বীনদারি মানে শুধু বাহ্যিক পোশাক বা পরিচয় নয়; বরং ঈমান, ইবাদত, উত্তম চরিত্র, সততা ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্য এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নবীজি (সা.)-এর এই হাদিসের শিক্ষা হলো, সম্পদ, বংশমর্যাদা ও সৌন্দর্যকে একেবারে উপেক্ষা করতে হবে এমন নয়। তবে এগুলোর চেয়ে দ্বীনদারিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ বাহ্যিক সৌন্দর্য কিংবা সম্পদ সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু দ্বীনদারি ও উত্তম চরিত্র একটি সুন্দর পরিবার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তাই জীবনসঙ্গী নির্বাচনের সময় সাময়িক আকর্ষণের পাশাপাশি তার ধর্মীয় মূল্যবোধ, চরিত্র ও পারিবারিক দায়িত্ব পালনের মানসিকতাও বিবেচনা করা উচিত।
বিভি/এনএইচ













মন্তব্য করুন: