দাফনের পর কবরে মানুষের সঙ্গে কী ঘটে?
ছবি: সংগৃহীত
মৃত্যুর পর মানুষের শেষ ঠিকানা কবর। দাফন শেষে প্রিয়জনেরা যখন একে একে ফিরে যান, তখন শুরু হয় মানুষের জীবনের এক নতুন অধ্যায়। দুনিয়ার আলো-বাতাস, পরিবার-পরিজন কিংবা সম্পদের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক থাকে না। কিন্তু কবরে তখন কী ঘটে? কারা আসেন মৃত ব্যক্তির কাছে? কী প্রশ্ন করা হয় তাকে? সেখান থেকেই কি ঈমানদার আর অবিশ্বাসীর পার্থক্য শুরু হয়?
একদিন হঠাৎ থেমে যাবে হৃদস্পন্দন। নিথর হয়ে পড়বে শরীর। যে মানুষটি কিছুক্ষণ আগেও পরিবারের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তাকে ঘিরেই তখন শুরু হবে কান্না আর আহাজারি। গোসল, কাফন ও জানাজা শেষে নিয়ে যাওয়া হবে শেষ ঠিকানায়। মাটির ঘরে শুইয়ে দেওয়া হবে নিথর দেহ। এরপর একে একে ফিরে যান স্বজনেরা।
ইসলামের বর্ণনা অনুযায়ী, মৃত্যুর পর মানুষের জন্য শুরু হয় বারযাখের জীবন। এটি দুনিয়ার জীবন ও কিয়ামতের মধ্যবর্তী একটি জগৎ। সহিহ বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, মৃত ব্যক্তিকে দাফন করে স্বজনেরা যখন ফিরে যেতে থাকেন, তখন সে তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায়। এরপর তার কাছে আসেন দুজন ফেরেশতা আসেন। তাকে বসিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করা হয়।
প্রথম প্রশ্ন, তোমার রব কে? দ্বিতীয় প্রশ্ন, তোমার দ্বীন কী? তৃতীয় প্রশ্ন, তোমাদের কাছে প্রেরিত এই ব্যক্তি কে?
অর্থাৎ, মহান আল্লাহর পরিচয়, নিজের ধর্ম এবং শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হবে। এটি কোনো সাধারণ প্রশ্নোত্তর নয়; বরং মানুষের ঈমানের এক কঠিন পরীক্ষা।
যিনি দুনিয়াতে আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছেন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ করেছেন, আল্লাহর সাহায্যে তিনি সঠিক উত্তর দেবেন। তখন তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হবে এবং তার কবর প্রশস্ত করে দেওয়া হবে। অন্যদিকে মুনাফিক ও অবিশ্বাসী ব্যক্তি এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারবে না। তার জন্য অপেক্ষা করবে কঠিন পরিণতি।
পবিত্র কোরআনের সুরা ইবরাহিমের ২৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, তিনি মুমিনদের দুনিয়ার জীবন ও আখিরাতে সুদৃঢ় বাক্যের মাধ্যমে অবিচল রাখেন। তাফসিরে এ আয়াতের সঙ্গে কবরের প্রশ্নের সম্পর্কও বর্ণিত হয়েছে। অর্থাৎ, শুধু মুখস্থ উত্তর নয়, দুনিয়ার জীবনে ঈমান ও আমলের ওপর অবিচল থাকাই গুরুত্বপূর্ণ।
তাহলে কবরের সেই কঠিন সময়ের জন্য কী প্রস্তুতি আমাদের? ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে, মৃত্যুর আগেই পরকালের প্রস্তুতি নিতে হবে। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে হবে। পাপের জন্য তওবা করতে হবে। মানুষের হক নষ্ট করা যাবে না। কারও ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করতে হবে। কারণ দুনিয়ার জীবনে অর্জিত সম্পদ, ক্ষমতা কিংবা পরিচিতি কিছুই সঙ্গে যাবে না। সঙ্গে যাবে কেবল ঈমান ও আমল।
মৃত্যু এমন এক বাস্তবতা, যাকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আজ যে অন্যের জানাজায় অংশ নিচ্ছে, একদিন তার জানাজাও পড়বে অন্যরা। তাই কবরের অন্ধকারে যাওয়ার আগেই আলোকিত করতে হবে নিজের আমলনামা।
বিভি/এনএইচ













মন্তব্য করুন: