• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

কিয়ামতের দিন সুপারিশ করবে কোরআন, রয়েছে আরও যেসব ফজিলত

প্রকাশিত: ২৩:০৩, ৫ নভেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
কিয়ামতের দিন সুপারিশ করবে কোরআন, রয়েছে আরও যেসব ফজিলত

পবিত্র কোরআন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবজাতির জন্য নাজিল করা সর্বশেষ আসমানি কিতাব। এটি শুধু তিলাওয়াতের গ্রন্থ নয়, বরং মানুষের জীবন পরিচালনার পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা। কোরআন পাঠের মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সুযোগ পান। পাশাপাশি কোরআনের শিক্ষা মানুষের চিন্তা, চরিত্র ও জীবনকে সুন্দর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ইসলামে কোরআন তিলাওয়াতের গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত করতেন এবং উম্মতকেও বেশি বেশি কোরআন পড়ার উৎসাহ দিয়েছেন।

প্রতিটি অক্ষর পাঠে ১০টি নেকি
কোরআন তিলাওয়াতের অন্যতম বড় ফজিলত হলো, এর প্রতিটি অক্ষর পাঠের বিনিময়ে রয়েছে নেকি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পাঠ করবে, তার জন্য একটি নেকি রয়েছে। আর একটি নেকি দশ গুণ করা হবে।’

এরপর তিনি বলেন, ‘আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মিম একটি অক্ষর; বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মিম একটি অক্ষর।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস ২৯১০)।

কোরআন তিলাওয়াতের আরেকটি বিশেষ ফজিলত হলো, কিয়ামতের দিন এটি পাঠকারীদের জন্য সুপারিশ করবে। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কোরআন পাঠ করো। কেননা, কিয়ামতের দিন কোরআন তার পাঠকারীদের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে উপস্থিত হবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮০৪)।

কোরআন শেখা ও শেখানোর মর্যাদা
কোরআন নিজে শেখার পাশাপাশি অন্যকে শেখানোরও রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।’(সহিহ বুখারি, হাদিস ৫০২৭)।

মানুষের অন্তরে প্রশান্তি ও স্থিরতা আনতে আল্লাহর স্মরণের গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।’(সুরা রাদ, আয়াত ২৮)।

কোরআন তিলাওয়াত আল্লাহর স্মরণের অন্যতম মাধ্যম। তাই নিয়মিত কোরআন পাঠের অভ্যাস একজন মুমিনের আত্মিক জীবনকে সমৃদ্ধ করতে পারে।

কষ্ট করে কোরআন পড়লেও রয়েছে দ্বিগুণ প্রতিদান
অনেকে শুদ্ধভাবে কোরআন পড়তে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। বিশেষ করে যারা নতুন করে কোরআন শেখেন, তাদের উচ্চারণে কষ্ট হতে পারে। তবে এ কারণে হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোরআন পাঠে দক্ষ, সে সম্মানিত ফেরেশতাদের সঙ্গে থাকবে। আর যে ব্যক্তি কোরআন পড়তে গিয়ে আটকে যায় এবং কষ্ট করে পড়ে, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ প্রতিদান। (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৭৯৮)।

কোরআন তিলাওয়াতের জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটি সময় বেছে নেওয়া যেতে পারে। ফজরের পর, দিনের অবসর সময়ে কিংবা রাতে ঘুমানোর আগে কিছু সময় কোরআন পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো।
শুধু তিলাওয়াত করেই দায়িত্ব শেষ নয়; কোরআনের অর্থ বোঝা, এর নির্দেশনা নিয়ে চিন্তা করা এবং জীবনে বাস্তবায়নের চেষ্টা করাও জরুরি।

কোরআন তিলাওয়াত একজন মুসলমানের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। তাই প্রতিদিন অল্প হলেও নিয়মিত কোরআন পড়া, শুদ্ধভাবে শেখা এবং এর শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার চেষ্টা করা উচিত।

কোরান আমাদের জীবনে এক পরম প্রশান্তি এনে দেয়। আর পরম করুনাময় আল্লা আমাদের জীবনকে আরো সুন্দর করে সাজানোর জন্যই এই উদ্দোগ নিয়েছেন বলে ।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত