যেসব অভ্যাস আপনাকে কবিরা গুনাহ থেকে দূরে রাখবে
ছবি: সংগৃহীত
মানুষের জীবনে ভুল-ত্রুটি থাকতেই পারে। তবে কিছু পাপ এতোটাই গুরুতর যে ইসলাম সেগুলো থেকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছে। শিরক, সুদ, অন্যায়ভাবে হত্যা, জিনা ও এতিমের সম্পদ আত্মসাতের মতো কাজ কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। এসব গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে নিজেকে কবিরা গুনাহ থেকে রক্ষা করবেন?
ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী, কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচতে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
১. আল্লাহর ভয় অন্তরে ধারণ করা
কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচার অন্যতম উপায় হলো আল্লাহর প্রতি ভয় ও আখিরাতের জবাবদিহির অনুভূতি তৈরি করা। মানুষ যখন বিশ্বাস করবে, তার প্রতিটি কাজের হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে, তখন পাপ থেকে দূরে থাকা সহজ হবে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার রবের সামনে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে এবং নিজের প্রবৃত্তি থেকে নিজেকে বিরত রাখে, জান্নাতই হবে তার আবাস।’ (সুরা আন-নাজিয়াত, আয়াত ৪০-৪১)।
২. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা
নিয়মিত নামাজ মানুষকে অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখতে সহায়তা করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সুরা আল-আনকাবুত, আয়াত ৪৫)।
৩. কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির করা
নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত, অর্থ অনুধাবন এবং আল্লাহর জিকির মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করতে সহায়তা করে। আল্লাহ বলেন, ‘জেনে রেখো, আল্লাহর জিকিরেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা আর-রাদ, আয়াত ২৮)।
৪. অসৎ সঙ্গ পরিহার করা
বন্ধু ও সঙ্গীদের প্রভাব মানুষের জীবনযাপনে পড়ে। অসৎ সঙ্গ অনেক সময় মানুষকে পাপের দিকে নিয়ে যায়। তাই ভালো মানুষের সঙ্গে চলাফেরা করা এবং নেক কাজে উৎসাহিত করে এমন বন্ধু নির্বাচন করা জরুরি।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের ওপর থাকে। সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকে যেন লক্ষ করে, সে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৮৩৩)।
৫. চোখ ও জিহ্বার হেফাজত করা
অশ্লীল দৃশ্য দেখা, মিথ্যা বলা, গিবত করা, অপবাদ দেওয়া ও অন্যের সম্মানহানি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ মুমিন পুরুষদের দৃষ্টি অবনত রাখতে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। (সুরা আন-নূর, আয়াত ৩০)।
৬. হালাল উপার্জন করা
সুদ, ঘুষ, প্রতারণা ও অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ থেকে বিরত থাকতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদ গ্রহণকারী, সুদ প্রদানকারী, সুদের লেখক ও সাক্ষীদের অভিশাপ দিয়েছেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৫৯৮)।
৭. পাপের পরিবেশ থেকে দূরে থাকা
যেসব পরিবেশ, অভ্যাস বা কাজ মানুষকে গুনাহের দিকে নিয়ে যায়, সেগুলো পরিহার করা উচিত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত ৩২)।
৮. নিয়মিত তওবা ও ইস্তিগফার করা
কোনো গুনাহ হয়ে গেলে হতাশ না হয়ে দ্রুত আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আন্তরিক তওবার জন্য পাপ ছেড়ে দেওয়া, অনুতপ্ত হওয়া এবং ভবিষ্যতে সেই পাপে ফিরে না যাওয়ার সংকল্প করা জরুরি। অন্যের অধিকার নষ্ট করলে তা ফিরিয়ে দিতে হবে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা আয-যুমার, আয়াত ৫৩)।
সাতটি ধ্বংসাত্মক গুনাহ থেকে সতর্ক করেছেন নবীজি
রাসুলুল্লাহ (সা.) সাতটি ধ্বংসাত্মক গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। সেগুলো হলো, আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা, জাদু করা, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা, সুদ খাওয়া, এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করা, যুদ্ধের ময়দান থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং সতী-সাধ্বী মুমিন নারীর প্রতি অপবাদ দেওয়া। (সহিহ বুখারি, হাদিস ২৭৬৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮৯)।
কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচতে হলে নিজের ঈমান, আমল ও জীবনযাপনের প্রতি সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি পাপের কারণ ও পরিবেশ থেকে দূরে থাকতে হবে। কোনো গুনাহ হয়ে গেলে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়ে আন্তরিকভাবে তওবা করতে হবে।
বিভি/এনএইচ













মন্তব্য করুন: