• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

প্রতিবেশীর হক নষ্ট করলে কী শাস্তি হতে পারে?

প্রকাশিত: ১৪:৩০, ৬ নভেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
প্রতিবেশীর হক নষ্ট করলে কী শাস্তি হতে পারে?

ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। মানুষের ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি সামাজিক আচরণও ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। কিন্তু কেউ যদি প্রতিবেশীকে কষ্ট দেন, তার অধিকার নষ্ট করেন কিংবা তার নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেন, তাহলে তার পরিণতি কী হতে পারে?

ইসলামে প্রতিবেশীর অধিকার এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন, এতিম ও মিসকিনের পাশাপাশি নিকট ও দূরের প্রতিবেশীর সঙ্গে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করো না। আর সদ্ব্যবহার করো মা-বাবার সঙ্গে, আত্মীয়স্বজন, এতিম, মিসকিন, নিকট প্রতিবেশী, দূর প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী সঙ্গী...।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৩৬)

প্রতিবেশীর অধিকার সম্পর্কে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর শপথ! সে মুমিন নয়। আল্লাহর শপথ! সে মুমিন নয়। আল্লাহর শপথ! সে মুমিন নয়।’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, কে? তিনি বললেন, ‘যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০১৬)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। কারও সঙ্গে ঝগড়া করা, অকারণে উচ্চ শব্দে বিরক্ত করা, তার সম্পদ নষ্ট করা, চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা কিংবা তার ব্যক্তিগত বিষয়ে অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করা প্রতিবেশীর অধিকার লঙ্ঘনের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

শুধু তাই নয়, প্রতিবেশীর প্রতি অন্যায় আচরণ মানুষের নেক আমলকেও বিপদের মুখে ফেলতে পারে। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, যে অনেক নামাজ, রোজা ও সদকা করত; কিন্তু প্রতিবেশীকে কষ্ট দিত। নবীজি (সা.) জানান, সে জাহান্নামে যাবে। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ৯৬৭৫; বর্ণনাটির গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে মুহাদ্দিসদের মূল্যায়ন রয়েছে।)

অন্যদিকে, প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণকে ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন মহানবী (সা.)। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীর সঙ্গে সদ্ব্যবহার করে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৭)

ইসলামের শিক্ষা হলো, প্রতিবেশীর অধিকার শুধু কথায় নয়, কাজেও রক্ষা করতে হবে। তার বিপদে পাশে দাঁড়ানো, অসুস্থ হলে খোঁজ নেওয়া, খাবার ভাগ করে দেওয়া, তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা এবং নিজের আচরণে তাকে নিরাপদ রাখা প্রত্যেকের দায়িত্ব।

তাই প্রকৃত মুমিন হতে হলে শুধু নিজের ইবাদতে মনোযোগী হলেই চলবে না, প্রতিবেশীর অধিকার সম্পর্কেও সচেতন হতে হবে। কারণ মানুষের সঙ্গে করা অন্যায়ের জন্য আল্লাহর কাছে তওবার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং তার কাছে ক্ষমা চাওয়াও জরুরি।

বিভি/এনএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত