• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

মৃত্যুর আগমুহূর্তে যে ৫ বিষয় নিয়ে সবচেয়ে বেশি আফসোস করবে মানুষ

প্রকাশিত: ০৯:৫৭, ৬ নভেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মৃত্যুর আগমুহূর্তে যে ৫ বিষয় নিয়ে সবচেয়ে বেশি আফসোস করবে মানুষ

ছবি: সংগৃহীত

মানুষের জীবন খুবই ক্ষণস্থায়ী। অথচ দুনিয়ার ব্যস্ততায় আমরা অনেক সময় ভুলে যাই জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য। অর্থ-সম্পদ, সম্মান, ক্যারিয়ার আর দুনিয়াবি সাফল্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে অবহেলা করি পরকালীন জীবনের প্রস্তুতি নিয়ে। কিন্তু মৃত্যুর সময় যখন ঘনিয়ে আসে, তখন আর ফিরে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। তখন অনেক অপূর্ণতা, অবহেলা ও ভুল সিদ্ধান্তের জন্য মানুষ আফসোস করে।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসে মৃত্যুর সময় মানুষের অনুশোচনা এবং পরকালের প্রস্তুতির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা এসেছে। ইসলামের আলোকে মৃত্যুর আগে মানুষ যে পাঁচটি বিষয় নিয়ে সবচেয়ে বেশি আফসোস করতে পারে, সেগুলো হলো:

১. আল্লাহর ইবাদতে অবহেলা করা
দুনিয়ার ব্যস্ততায় অনেক মানুষ নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও অন্যান্য ইবাদতে অবহেলা করে। অথচ মৃত্যুর পর দুনিয়ায় ফিরে এসে নেক আমল করার আকাঙ্ক্ষা মানুষের মনে জাগবে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদের আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন না করে। যারা এমন করবে, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।’ (সুরা মুনাফিকুন, আয়াত: ৯)

একই সুরার ১০ নম্বর আয়াতে মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ার আগেই আল্লাহর পথে ব্যয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তখন মানুষ বলবে, ‘হে আমার রব! আপনি আমাকে আরও কিছু সময় অবকাশ দিলে আমি সদকা করতাম এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।’

২. তওবা ও পাপ থেকে ফিরে আসতে দেরি করা
মানুষ ভুল করে, পাপ করে। কিন্তু জীবনের বড় ভুলগুলোর একটি হলো পাপের পরও তওবা না করে সময়ক্ষেপণ করা। অনেকেই ভাবেন, পরে একসময় আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবেন। কিন্তু সেই ‘পরে’ সময়টি আর নাও আসতে পারে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর এমন লোকদের জন্য তওবা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে, এমনকি তাদের কারও মৃত্যু উপস্থিত হলে সে বলে, আমি এখন তওবা করছি।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১৮)

তাই জীবিত থাকতেই আন্তরিকভাবে তওবা করে পাপ থেকে ফিরে আসা জরুরি।

৩. মানুষের হক নষ্ট করা ও ক্ষমা না চাওয়া
আল্লাহর হক আদায়ের পাশাপাশি মানুষের অধিকার রক্ষা করাও ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারও সম্পদ আত্মসাৎ করা, কাউকে অপমান করা, গিবত করা, অন্যায়ভাবে কষ্ট দেওয়া কিংবা কারও পাওনা আটকে রাখা, এসবের জন্য শুধু মুখে তওবা করাই যথেষ্ট নয়; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া বা তার কাছে ক্ষমা চাওয়াও জরুরি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের ওপর কোনো জুলুম করেছে, সে যেন আজই তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪৪৯)

মৃত্যুর পর মানুষের কাছে ফিরে গিয়ে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ থাকবে না। তাই দুনিয়াতেই মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক সুন্দর করা এবং কারও অধিকার নষ্ট করে থাকলে তা ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।

৪. পরিবার ও প্রিয়জনদের হক আদায় না করা
জীবিকার পেছনে ছুটতে গিয়ে অনেকেই পরিবারকে যথেষ্ট সময় দেন না। বাবা-মায়ের খোঁজ নেন না, স্ত্রী-সন্তানের দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন কিংবা আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন না। অথচ ইসলাম পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের অধিকার আদায়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৯৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮২৯)

মৃত্যুর আগে মানুষ হয়তো উপলব্ধি করবে, অর্থ উপার্জনের ব্যস্ততায় যাদের জন্য এত কিছু করেছে, তাদেরই যথাযথ সময় ও অধিকার দিতে পারেনি।

৫. পরকালের প্রস্তুতির চেয়ে দুনিয়াকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া
দুনিয়ার জীবন নিয়ে মানুষের পরিকল্পনার শেষ নেই। বাড়ি, গাড়ি, সম্পদ ও প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন পূরণে অনেকেই জীবনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করেন। অথচ পরকালের জন্য প্রয়োজনীয় নেক আমল সঞ্চয়ে উদাসীন থাকেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বরং তোমরা দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দাও, অথচ আখিরাতই উত্তম ও অধিক স্থায়ী।’ (সুরা আল-আলা, আয়াত: ১৬-১৭)

মৃত্যুর পর মানুষ বুঝতে পারবে, দুনিয়ার সম্পদ ও পদমর্যাদা স্থায়ী ছিল না। স্থায়ী জীবনের জন্য প্রয়োজন ছিল ঈমান, নেক আমল ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা।

মৃত্যুর আগেই ফিরে আসার সুযোগ
মৃত্যু এমন এক বাস্তবতা, যা থেকে কারও মুক্তি নেই। তবে জীবিত থাকা অবস্থায় মানুষের সামনে তওবা, ইবাদত, মানুষের হক আদায় এবং নেক আমল করার সুযোগ রয়েছে। তাই মৃত্যুর পর আফসোস করার অপেক্ষা না করে এখনই নিজেকে সংশোধন করা জরুরি।

বিভি/এনএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত