• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারি ২০২৬

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আতশবাজিতে কেঁপেছে রাজধানী

মো. ওবায়দুল্লাহ, ঢাকা কলেজ 

প্রকাশিত: ০৮:৩২, ১ জানুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আতশবাজিতে কেঁপেছে রাজধানী

রাজধানী ঢাকায় বছরের শেষ প্রহরে আতশবাজির বিকট শব্দে কেঁপে উঠছে পুরো নগরী। রাত নামার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন এলাকা থেকে একের পর এক আতশবাজির শব্দে ও ফানুস ওড়ানোয়  আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ। শব্দদূষণ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি উপেক্ষা করে নিষেধাজ্ঞা ভেঙে চলেছে অবাধ আতশবাজি উৎসব।

নতুন বছরকে বরণ করতে নগরীর আবাসিক এলাকা, ছাদ, গলি ও ফাঁকা মাঠে হয় আতশবাজির প্রদর্শনী এবং ডিজে পার্টি। কোথাও কোথাও এতটাই উচ্চ শব্দ হচ্ছে যে ভূমিকম্পের মতো কম্পন অনুভূত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে নিউমার্কেট, ধানমন্ডি, শাহবাগ, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী , মিরপুর ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আতশবাজির তীব্রতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার থেকে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হবে।

শোক পালনকালীন সময়ে ঢাকা মহানগর এলাকায় সব ধরনের আতশবাজি ও পটকা ফোটানো, ফানুস ও গ্যাস বেলুন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে উন্মুক্ত স্থানে কোনো ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ডিজে পার্টি, র‍্যালি কিংবা শোভাযাত্রা আয়োজন করা যাবে না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশনাকে মানছে না এক শ্রেণির মানুষ। রাষ্ট্রীয় শোক পালনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এধরনের আনন্দ উল্লাসকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় হিসেবেই দেখছেন নগরবাসী।

ফয়সাল মাহমুদ নামে একজন ফেসবুক পোস্টে বলেন, আতশবাজির বিকট শব্দে, ছোট্ট ফালাক আঁতকে উঠছে বারবার। ৪ মাসের বাচ্চা নিয়ে খুব অসহায়ত্বের মধ্যে আছি।

এছাড়াও নগরবাসীর একাংশ বলছেন, উৎসব হোক আনন্দের, আতঙ্কের নয়। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে এমন আয়োজন কাম্য নয় যা মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। রাতটাতকে বিভীষিকাময় বানিয়ে ফেলেছে। তাছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকাহত পুরো দেশবাসী, সেখানে এই ধরনের আনন্দ উল্লাস বিবেকহীনতার পরিচয় বহন করে। রাজধানীকে নিরাপদ ও শান্ত রাখতে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত শব্দদূষণ হৃদরোগী, গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। বিকট শব্দে উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক ও মানসিক চাপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি হঠাৎ শব্দে শিশুদের মধ্যে আতঙ্ক ও ট্রমার লক্ষণও দেখা দিতে পারে। 

এই পরিস্থিতিতে আতশবাজির শব্দে কাঁপতে থাকা রাজধানী যেন নতুন বছরের প্রথম প্রহরেই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছে, উৎসবের আনন্দ কি নিরাপত্তা ও মানবিকতার ঊর্ধ্বে?

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত
Drama Branding Details R2
Drama Branding Details R2