• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বলি বড়লেখার আহমদ আলী, বাড়ি ফিরলেন লাশ হয়ে

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০:৩৩, ১০ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ১০:৩৪, ১০ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বলি বড়লেখার আহমদ আলী, বাড়ি ফিরলেন লাশ হয়ে

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের বলি হয়ে অবশেষে লাশ হয়ে নিজ গ্রামের বাড়িতে ফিরলেন মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার প্রবাসী আহমদ আলী ওরফে সালেহ আহমেদ। সোমবার (৯ মার্চ) বিকালে তার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে চারদিকে শোকের মাতম ছড়িয়ে পড়ে। তাকে হারিয়ে শুধু পরিবার নয়, পুরো গ্রামই শোকে বিহ্বল হয়ে পড়ে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে বসবাস করতেন আহমদ আলী। সেখানে তিনি পানি সরবরাহের কাজ করতেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রতিদিনের মতো কাজে বের হলেও আর ফিরে আসেননি। ইসরাইল–যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাতের প্রথম দিনেই প্রাণ হারান এই প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধা।

পরিবারের সদস্যরা জানান, দেশে ফিরে নতুন বাড়ির নির্মাণকাজ শেষ করা এবং কলেজপড়ুয়া মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু যুদ্ধ সেই স্বপ্ন আর বাস্তব হতে দিল না।

সোমবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে ঢাকা থেকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে তার মরদেহ বড়লেখা উপজেলার হাজীটেকা গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে। এর আগে সিলেট বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। পরে সড়কপথে বিয়ানীবাজার হয়ে মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।

বাড়িতে মরদেহ পৌঁছালে স্বজন ও গ্রামবাসী কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্থানীয়রা জানান, আহমদ আলী ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। গ্রামে এলে তিনি সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশতেন। পুরোনো বাড়ির পাশে নতুন একটি বাড়ি নির্মাণ করছিলেন, সেটিও দেখে যেতে পারলেন না তিনি। পরিবার ও এলাকাবাসী সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।

সিলেট বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণ করে নিজেই গ্রামের বাড়িতে ছুটে যান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকার প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের পাশে রয়েছে। আহমদ আলীর পরিবারের জন্য আপাতত প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোট ২ লাখ ৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও তার পরিবার ও সন্তানদের সার্বিক সহায়তা করা হবে বলে জানান তিনি।

সোমবার আসরের নামাজের পর স্থানীয় গাজীটেকা শাহী ঈদগাহ মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে স্থানীয় পাঞ্জেগানা কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গ্রামবাসী অংশ নেন।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত