১৭ বছরের অনাচারে ধ্বংসের মুখে চলচ্চিত্রশিল্প: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল
গত ১৭ বছরের অনাচারে দেশের চলচ্চিত্রশিল্প ধ্বংসের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তার ভাষ্য, চলচ্চিত্রশিল্পের বর্তমান অবস্থা রুগ্ণশিল্পের চেয়েও খারাপ। এ শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে রাঙ্গামাটি জেলা আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্সে ৬০ আসনের একটি মিনি-সিনেপ্লেক্স রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাঙ্গামাটি শহরের ট্রাইব্যাল আদাম বটতলা এলাকায় ‘রাঙ্গামাটি জেলা আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স’ নির্মাণকাজের ভিত্তি স্থাপন উদ্বোধন শেষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বনরূপা এলাকার মুজাদ্দেদ-ই আলফেসানী একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেশব্যাপী পরিকল্পনা এবং তথ্য ও সম্প্রচার-সংক্রান্ত পরিকল্পনা ৩১ দফায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। সরকার তথ্য কমপ্লেক্স প্রকল্পকে অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে দেখছে বলেও জানান তিনি। তার মতে, এ কমপ্লেক্স শুধু একটি ভবন নয়; এর সঙ্গে বিভিন্ন কার্যক্রম ও উদ্দেশ্য যুক্ত রয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারের প্রসঙ্গে মীর হেলাল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়াই নানা তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার করে মানুষের চরিত্রহননসহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্মেও কেউ কেউ যুক্ত হচ্ছে। তথ্য কমপ্লেক্সে ফ্যাক্টচেকিং বিভাগ চালু হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষও উপকৃত হবে এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে এটি ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই তিন পার্বত্য জেলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে মনোযোগী। এসব এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সম্প্রতি তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, গত তিন দিন ধরে তিনি খাগড়াছড়ি, সাজেক ও রাঙ্গামাটিতে অবস্থান করছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে মানুষের প্রয়োজন ও সমস্যাগুলো সরাসরি অনুভব করে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্যেই এ সফর বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. শাহ আলমের সভাপতিত্বে গেস্ট অব অনার ছিলেন রাঙ্গামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এসএম আব্দুর রহমান, রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইমরানুল হক ভূঁইয়া।
স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা পর্যায়ে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান।
প্রকল্প পরিচালক জানান, প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে দেশের ২৬টি জেলায় আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে। রাঙ্গামাটিও এর আওতায় রয়েছে। কমপ্লেক্সে অফিস ও অবকাঠামোর পাশাপাশি থাকবে বিভিন্ন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সুবিধা। এর মধ্যে ডিজিটাল ল্যাব, ডিজিটাল আর্কাইভ, ফ্যাক্টচেকিং বিভাগ, মাল্টিপারপাস হল ও সিনেপ্লেক্স রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গামাটি জেলা আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্সটি পাঁচতলা ভবনের ভিত্তির ওপর নির্মিত হবে। এর মোট আয়তন ১৪ হাজার ৬২০ বর্গফুট। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ কোটি ৮৭ লাখ ৫৫ হাজার টাকা এবং বাস্তবায়নের মেয়াদ দুই বছর।
এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ, রাঙ্গামাটি গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শর্মি চাকমা, জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক রাহুল বণিকসহ প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: