• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

টানা অবরোধে সাজেকে মানবিক সংকট, থমকে খাগড়াছড়ির পর্যটন

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫:৫৬, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
টানা অবরোধে সাজেকে মানবিক সংকট, থমকে খাগড়াছড়ির পর্যটন

ছবি: সাজেক

টানা অবরোধ ও প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞায় পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির সাজেক। এতে চরম সংকটে পড়েছেন পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীরা। সাজেক রিসোর্ট মালিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক নেতার দাবি, পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে, দীর্ঘ অবরোধে সাজেকে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে; নষ্ট হচ্ছে কৃষিপণ্যও।

গত ২২ অক্টোবর থেকে ইউপিডিএফ-সমর্থিত সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। এর আগে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাজেক ও খাগড়াছড়ির হোটেল-রিসোর্টগুলোতে ব্যাপক বুকিং ছিলো। অবরোধ এবং রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সাময়িক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় বুকিং দিয়েও সেখানে যেতে পারেননি বহু পর্যটক।

অবরোধকারীদের অন্যতম দাবি, সাজেক থেকে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নিতে হবে। এদিকে, ২২ অক্টোবর সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি ফেরার পথে উজোবাজার এলাকায় পর্যটকদের বহরে গুলির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন পর্যটক আহত হন। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গেও হামলাকারীদের গুলিবিনিময় হয়।

পরিস্থিতির অবসান ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে খাগড়াছড়িতে দুই দফা বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, অবরোধ ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর চাঁদাবাজিতে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাজেক রিসোর্ট মালিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খলিল দৈনিক প্রায় ৫ কোটি টাকা ক্ষতির কথা জানান।

খাগড়াছড়ি ই- টুরিজম এসোসিয়েশনের সদস্য উজ্জল দে’র অভিযোগ, এক দিকে অবরোধ চলছে,অপর সাজেকে রির্সেট ব্যবসায়ীদের আগামী বছরের জন্য চাঁদা দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে সন্ত্রাসীরা। 

এর আগে গত ২৬ অক্টোবর বিকাল ৩টা থেকে সাজেকের অচলাবস্থা নিরসনে সাজেকের গঙ্গারামমুখের উজোবাজারে অবরোধকারীদের সঙ্গে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় পৌনে ৬টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়ার নেতৃত্বে সাবেক পার্বত্য মন্ত্রী ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত, খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ সুপার মোরতোজা আলী খাঁন, বাঘাইছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান, সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। অপর দিকে অবরোধকারীদের পক্ষে বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করেন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির বাবুধন চাকমা, জিকু চাকমা, কারবারি এসোসিয়েশনের নতুন জয় চাকমা ও ছাত্র জনতার সংগ্রাম পরিষদের ঊষাতন চাকমা অংশ নেন। বৈঠকে অবরোধকারীরা সরকারের প্রতিনিধিদলের কাছে ৫ দফা লিখিত দাবি উত্থাপন করে।

এসময় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া জানান, পাঁচ দফার চারটি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। সাজেক থেকে জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কয়েক দিনের মধ্যে আবার আলোচনা হবে বলেও জানান তিনি। তবে অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি।

বিভি/এমআর

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত