• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ফেনীতে সাংবাদিক জসিম ফরায়েজির ওপর হামলার ঘটনায় নিষিদ্ধ আ. লীগ নেতা আটক

ফেনী প্রতিনিধি 

প্রকাশিত: ২২:৪৩, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ২২:৪৪, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ফেনীতে সাংবাদিক জসিম ফরায়েজির ওপর হামলার ঘটনায় নিষিদ্ধ আ. লীগ নেতা আটক

ফাইল ছবি

ফেনী শহরে সাংবাদিক জসিম ফরায়েজির ওপর হামলা, পিস্তল দেখিয়ে হত্যার হুমকি ও গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টার অভিযোগে সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা খালেদ খানকে আটক করেছে পুলিশ। 

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করা হয়। ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আটক খালেদ খান ফেনী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর। তিনি ফেনীর মহিপালে ছাত্র হত্যা মামলার আসামি বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও সহিংসতার ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও অভিযোগকারী সাংবাদিক জানিয়েছেন।

জসিম ফরায়েজি জিটিভির ফেনী জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক আলোকিত গণমাধ্যমের যুগ্ম সম্পাদক এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর সাধারণ সম্পাদক।

জসিম ফরায়েজির অভিযোগ, বুধবার বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে ফেনী এলজিইডি সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠান ও সনদ বিতরণ শেষে তিনি মোটরসাইকেলে বাসার উদ্দেশে রওনা হন। সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর উদ্যোগে এবং প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর তত্ত্বাবধানে তিন দিনব্যাপী ওই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিলো।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের বিদায় জানিয়ে তিনি মোটরসাইকেলে বাসায় ফিরছিলেন। পথে শহরের পাঠানবাড়ী সড়কে মোমিন জাহান মসজিদ অতিক্রম করে শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কে প্রবেশের কিছুটা আগে পৌঁছালে একটি প্রাইভেটকার তার মোটরসাইকেলের সামনে এসে পথরোধ করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এজাহারের খসড়ায় জসিম ফরায়েজি উল্লেখ করেন, প্রাইভেটকার থেকে সাবেক কাউন্সিলর খালেদ খান, এমরান হোসেন, গাড়িচালক ও তাদের সঙ্গে থাকা আরও একজন নেমে আসেন। এ সময় খালেদ খানের হাতে পিস্তল ছিলো বলে অভিযোগ করেন তিনি। পিস্তল তাক করে তাকে ভয় দেখানোর পর আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালান।

জসিম ফরায়েজির অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি চড়, ঘুষি ও লাথি মারেন। এমরান হোসেন তার দুই কানে একাধিক চড় মারেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। আকস্মিক এ হামলায় তিনি আত্মরক্ষার চেষ্টা করেও তাদের সম্মিলিত আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন।

একপর্যায়ে তাকে মারধর করতে করতে কাছাকাছি একটি গলির ভেতরে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন জসিম ফরায়েজি। সেখানে তাকে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ বলে অপমান করা হয়। পরে খালেদ খান পিস্তল উঁচিয়ে তাকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারের খসড়ায় আরও বলা হয়, একপর্যায়ে খালেদ খান তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। একই সময়ে এমরান হোসেন একটি রশি এনে তার গলায় পেঁচিয়ে দেন। এতে তার শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং তিনি প্রাণনাশের আশঙ্কায় পড়েন বলে অভিযোগ করেন জসিম ফরায়েজি।

পরে তার সহকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন। কিছুক্ষণ পর পুলিশও ঘটনাস্থলে আসে। হামলায় আহত হওয়ার পর তিনি ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে জানিয়েছেন।

জসিম ফরায়েজির দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফেনীর বিভিন্ন অপরাধ, সহিংসতা, অস্ত্র প্রদর্শন ও চাঁদাবাজিসংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন। খালেদ খানের বিরুদ্ধে মহিপালে ছাত্র হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে তার জানা। এসব বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে ক্ষুব্ধ হয়ে খালেদ খান সহযোগীদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালিয়ে থাকতে পারেন বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।

তার অভিযোগ, হামলার সময় ‘ভুয়া সাংবাদিক’ বলে অপমান করার মাধ্যমে তাকে পেশাগতভাবে হেয় করা হয়েছে। এ ঘটনার মাধ্যমে তাকে ভয়ভীতি দেখানো, সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি এবং ভবিষ্যতে সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। এ কারণে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই সাংবাদিক।

ফেনী মডেল থানার ওসি আমিনুল ইসলাম খালেদ খানকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগী বাদী হয়ে মামলা করতে এলে অভিযোগ গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় জসিম ফরায়েজি বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার, হামলায় ব্যবহৃত পিস্তল, প্রাইভেটকার ও রশি উদ্ধারের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শী এবং তাকে উদ্ধারকারী সহকর্মীদের বক্তব্য গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

তবে এ ঘটনায় আটক খালেদ খান ও অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিভি/এআই

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত