কাশিমপুর কারাগারে জাপানের প্রযুক্তিতে এডিসের লার্ভা ধ্বংসের উদ্যোগ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে লার্ভা ধ্বংসে জাপানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে প্রশিক্ষণ ও সরাসরি লার্ভিসাইড প্রয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) ডেঙ্গু প্রতিরোধ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (ডিপিএফবি), বাংলাদেশের কাইজেন কানেক্টস লিমিটেড এবং জাপানের আর্থ করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে কারা কর্মকর্তাদের এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্তকরণ, লার্ভা নিয়ন্ত্রণ এবং লার্ভিসাইড ব্যবহারের বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
কর্মশালায় ডিপিএফবির মহাসচিব ডা. মাসুদ এবং জ্যেষ্ঠ কীটতত্ত্ববিদ শরিফুল ইসলাম এডিস মশার জীবনচক্র, প্রজননস্থল ও নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরেন। তারা জানান, বাড়ির আশপাশে কিংবা বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানির পাত্রসহ সহজে চোখে পড়ে না—এমন জায়গাও এডিস মশার প্রজননস্থল হতে পারে। এসব স্থান নিয়মিত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
কর্মশালায় কাশিমপুর কারাগারের জেল সুপার, ডেপুটি জেলারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
প্রশিক্ষণ শেষে কারাগারের চিহ্নিত মশার প্রজননস্থলে জাপানের আর্থ করপোরেশনের সরবরাহ করা লার্ভিসাইড ট্যাবলেট প্রয়োগ করা হয়। এতে পাইরিপ্রক্সিফেন নামের একটি উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। এটি মশার বৃদ্ধি ও বিকাশে বাধা দিয়ে লার্ভা থেকে পূর্ণাঙ্গ মশায় রূপান্তর প্রতিরোধ করে।
লার্ভিসাইড প্রয়োগের সময় উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রম তদারক করেন কীটতত্ত্ববিদ শরিফুল ইসলাম। এ সময় ট্যাবলেটের সঠিক মাত্রা, প্রয়োগস্থল ও ব্যবহারের পদ্ধতি সম্পর্কে কারা কর্মকর্তাদের হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে কারা বিভাগের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) কামাল হোসেন এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, কারাগারের বন্দি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।
আয়োজকেরা জানান, শুধু সচেতনতা তৈরি নয়, বরং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কারা কর্তৃপক্ষের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো এবং নিয়মিত মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণে রাখাই এ কর্মসূচির লক্ষ্য।
বিভি/কেএস/পিএইচ













মন্তব্য করুন: