• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২

ইউএস বাংলার ঘাড়ে চেপে ‘এয়ার এ্যাস্ট্রা’র যাত্রা শুরু

প্রকাশিত: ১৯:৩১, ২৪ নভেম্বর ২০২২

ফন্ট সাইজ
ইউএস বাংলার ঘাড়ে চেপে ‘এয়ার এ্যাস্ট্রা’র যাত্রা শুরু

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর মধ্য দিয়ে দেশের আকাশে ডানা মেলেছে বেসরকারি খাতের আরও একটি নতুন এয়ারলাইন্স- ‘এয়ার এ্যাস্ট্রা’। ৭০ সিটের এ ফ্লাইটটি যাত্রার প্রথমদিনেই বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) সকাল আটটায় শতভাগ যাত্রী নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ে। পরে ফিরেও আসে প্রায় শতভাগ যাত্রী নিয়ে। 

এর মধ্য দিয়ে দেশের এভিয়েশন খাতে যুক্ত হলো নতুন এয়ারলাইন্স ‘এয়ার অ্যাস্ট্রা’। আকাশে ওড়ার প্রথমদিনে বেসরকারি এই কোম্পানিটি দু’টি এটিআর ৭২-৬০০ উড়োজাহাজ দিয়ে ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করলো। 

প্রথম যাত্রা শুরু

এয়ার এ্যাস্ট্রার মূল কাণ্ডারি হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া রিজেন্ট এয়ারের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ। নেপালে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ৫১ জনের প্রাণহানির বছরেও প্রতিষ্ঠানটির সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এয়ার এ্যাস্ট্রার শুরু থেকেই শক্ত হাতে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন ইমরান আসিফ। 

গত ১৫ নভেম্বর অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় তিনি জানান, ‘দীর্ঘ ৯ বছর পর বাংলাদেশের আকাশে আরেকটি নতুন এয়ারলাইন্স হিসেবে আত্মপ্রকাশ করায় গর্বিত এয়ার এ্যাস্ট্রা। সময়ানুবর্তিতা ও নিরাপদ যাত্রীসেবার মাধ্যমে যাত্রীদের কাছে সবচেয়ে পছন্দের ও নির্ভরযোগ্য এয়ারলাইন্স হিসেবে এয়ার এ্যাস্ট্রাকে প্রতিষ্ঠিত করাই তার মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন ইমরান আসিফ। 

‘এয়ার এ্যাস্ট্রা’ ২০২১ সালের জুনে যৌথ মূলধন কোম্পানি-জয়েন স্টক কোম্পানি থেকে নিবন্ধন লাভ করেন। এ্যাস্ট্রা এয়ারওয়েজ লিমিটেড নামের এই উড়োজাহাজ কোম্পানিটির মূল বিনিয়োগকারী জাপান প্রবাসী ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদ। যিনি সম্পর্কে মূলত ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের শ্যালক। 

কাগজে-কলমে এয়ার এ্যাস্ট্রার নিবন্ধন হারুন অর রশীদের নামে হলেও পরোক্ষভাবে আব্দুল্লাহ আল মামুনই প্রতিষ্ঠানটির মূল চালিকাশক্তি বলে খবর  রয়েছে এভিয়েশন পাড়ায়। সামনে না থাকলেও ইউএস বাংলার সহযোগিতাতেই দ্রুততম সময়ে ডানা মেলতে সক্ষম হয়েছে এয়ার এ্যাস্ট্রা। এভিয়েশন খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউএস বাংলার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তা থাকায় এয়ার এ্যাস্ট্রাকে ডানা মেলতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। 

বিনিয়োগও লেগেছে তুলনামূলক কম। অন্যদিকে, ইউএস বাংলায় যেখানে প্রায় দুই হাজার লোক কাজ করছে সেখানে এয়ার এ্যাস্ট্রার জনবল এখনো দুইশ’র নিচে। বড় ভাইয়ের মতো হাত ধরে এগিয়ে নেওয়ায় পথ চলা সহজ হয়েছে এয়ার এ্যাস্ট্রার।

পরোক্ষভাবে বিনিয়োগ সহযোগিতা শুধু নয়, এয়ার এ্যাস্ট্রাকে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স। এয়ার এ্যাস্ট্রাকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও হ্যাঙ্গার সুবিধা দেয়া থেকে শুরু করে এয়ারলাইন্স অপারেশন, ইঞ্জিনিয়ারিং, মেইনটেনেন্স ও ট্রান্সপোর্টেশনের মতো সব ধরনের সুবিধাই দিচ্ছে ইউএস বাংলা। বিষয়টি স্বীকার করেছেন ইউএস বাংলার এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম। 

তিনি জানান, ইঞ্জিনিয়ারিং, ফ্লাইট অপারেশন, মেইনটেনেন্সের মতো সবধরণের লজিস্টিক সাপোর্ট নিচ্ছে এয়ার এ্যাস্ট্রা। টেকনিক্যাল কারণে যাত্রী পরিবহন বাধাগ্রস্ত হলেও এয়ার এ্যাস্ট্রাকে সেই সুবিধা দিতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ইউএস বাংলা।

ব্যস্ত কর্মকর্তারা

বিষয়টি নিয়ে এয়ার এ্যাস্ট্রার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা-সিইও ইমরান আসিফের বাংলালিংক নম্বরে বৃহস্পতিবার কয়েকদফা যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। তবে, এয়ার এ্যাস্ট্রার জনসংযোগ বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার সাকিব হাসান শুভ জানান, কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে ইউএস বাংলার কাছে বেশকিছু বিষয়ে টেকনিক্যাল সাপোর্ট নেওয়া হচ্ছে। অন্য অনেক এয়ারলাইন্সও একইভাবে প্রতিষ্ঠিত এয়ারলাইন্সের লজিস্টিক সুবিধা ব্যবহার করে।

চলতি বছরের মধ্যে আরও দু’টি এয়ারক্রাফট ডেলিভারি পাওয়ার আশা করছে এয়ার এ্যাস্ট্রা। সবমিলিয়ে ২০২৩ সালের মধ্যে উড়োজাহাজ বহর ১০টিতে উন্নীত করতে চায় নতুন এ এয়ারলাইন্সটি। গত ২৫ বছরে দেশে ১০টি বেসরকারি এয়ারলাইন্স যাত্রা শুরু করলেও নতুন চালু হওয়া এয়ার এ্যাস্ট্রাসহ এখন টিকে রইলো তিনটি। আকাশে ডানা মেলার অপেক্ষায় রয়েছে ‘ফ্লাই ঢাকা’ নামের আরও একটি এয়ারলাইন্স।

বিভি/জেডএইচএস/এজেড

মন্তব্য করুন: