• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

না জমেই শেষ হচ্ছে ‘বিশ্বকাপের বিকল্প’

প্রকাশিত: ১৯:০০, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
না জমেই শেষ হচ্ছে ‘বিশ্বকাপের বিকল্প’

বিশ্বকাপের শূন্যতা কোনো ঘরোয়া টুর্নামেন্ট দিয়ে পূরণ করা যায় না- এটা জানার পরও বিসিবি চেয়েছিল ক্রিকেটারদের মাঠে রাখার একটা উপলক্ষ তৈরি করতে। বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার ফলে যে আর্থিক ও মানসিক ধাক্কা এসেছে, তার কিছুটা হলেও সামাল দিতেই আয়োজন করা হয়েছিল অদম্য বাংলাদেশ টি–টোয়েন্টি কাপ। তবে, শেষ পর্যন্ত সেই ‘বিশ্বকাপের বিকল্প’ খুব একটা জমলো না।

তিন দলের এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল আজ সন্ধ্যায়। মুখোমুখি হবে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দুর্বার একাদশ এবং লিটন দাসের ধূমকেতু একাদশ। মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচ দিয়েই পর্দা নামছে টুর্নামেন্টের।

আয়োজনে ঘাটতি ছিল না। শুধু প্রাইজমানিই রাখা হয়েছিল প্রায় আড়াই কোটি টাকা। প্রতিদিন ম্যাচের আগে গান-বাজনা, আলো-ঝলমলে পরিবেশ আর নানা আয়োজনের মাধ্যমে গ্যালারিতে দর্শক টানার চেষ্টা করেছে বোর্ড। উদ্দেশ্য ছিল- ক্রিকেটের বাইরে কিছু বাড়তি আকর্ষণ যোগ করে অন্তত উৎসবের আবহ তৈরি করা। যদিও ফাইনালের আগে আর সংগীতানুষ্ঠান থাকছে না, খেলা শেষে আতশবাজির আয়োজন রাখা হয়েছে।

বিসিবির প্রত্যাশা ছিল, অন্তত ফাইনালে ভালো দর্শকসমাগম হবে। কিন্তু, বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। আগের ম্যাচগুলোতে যেমন দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়েছে টুর্নামেন্ট, ফাইনালের টিকিট বিক্রিতেও শেষ পর্যন্ত আশানুরূপ সাড়া মেলেনি।

সংখ্যার দিকে তাকালেই চিত্রটা পরিষ্কার। প্রথম ম্যাচে টিকিট বিক্রি হয়েছে তিন লাখ টাকার সামান্য বেশি, দ্বিতীয় ম্যাচে বিক্রি দাঁড়ায় প্রায় সাত লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকায়। গান-বাজনার আয়োজনও দর্শক বাড়াতে পারেনি। শেরেবাংলার গ্যালারিতে উৎসবের যে চিত্র প্রত্যাশিত ছিল, তা দেখা যায়নি।

মাঠের ক্রিকেটেও তেমন উত্তেজনা ছড়াতে পারেনি এই আসর। ম্যাচগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘাটতি চোখে পড়েছে। সব মিলিয়ে দর্শক, পরিবেশ আর ক্রিকেট- কোনো দিক থেকেই জমেনি অদম্য বাংলাদেশ টি–টোয়েন্টি কাপ। ফলে না জমেই শেষ হচ্ছে তথাকথিত ‘বিশ্বকাপের বিকল্প’ আয়োজন।

তবে, ফাইনাল ম্যাচে লড়াইয়ের সম্ভাবনা আছে। লিগ পর্বে অপরাজিত থেকে ফাইনালে ওঠা দুর্বার একাদশ প্রথম পর্বেই ধূমকেতুকে হারিয়েছিল। অন্যদিকে, লিটন দাসের নেতৃত্বে ধূমকেতু একাদশ ফাইনালে এসেছে আকবর আলীর দুরন্ত একাদশকে হারিয়ে।

শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে শেষবারের মতো উত্তেজনা ছড়াতে পারলে সেটাই হবে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। না হলে এই আসর স্মরণে থাকবে- একটি বড় শূন্যতা পূরণের চেষ্টার ব্যর্থ উদাহরণ হিসেবেই।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: