• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

টিকিট-ভিসা কোনটিই নেই; তবুও মেসির শেষ ম্যাচ দেখতে আর্জেন্টিনার পথে ভক্ত ইকবাল!

প্রকাশিত: ২৩:২২, ৪ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ২৩:২৬, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
টিকিট-ভিসা কোনটিই নেই; তবুও মেসির শেষ ম্যাচ দেখতে আর্জেন্টিনার পথে ভক্ত ইকবাল!

ম্যাচের টিকিট নেই, এমনকি আর্জেন্টিনার ভিসাও নেই—তবু প্রিয় তারকা লিওনেল মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি স্টেডিয়ামে বসে দেখার আশায় ভারতের কেরালা থেকে আর্জেন্টিনার পথে রওনা হয়েছেন ইয়াদিল এম ইকবাল। বেঙ্গালুরু থেকে বুয়েনস আয়ার্সে পৌঁছাতে তার লাগবে প্রায় ৩২ ঘণ্টা। সেখানে গিয়ে কোনোভাবে একটি টিকিট জোগাড় করতে পারবেন—এই আশাতেই এত দীর্ঘ যাত্রা তার।

তবে টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এস্তাদিও মনুমেন্তালের ম্যাচটির সব টিকিট এক ঘণ্টারও কম সময়ে বিক্রি হয়ে গেছে। তবু দমে যাননি ইয়াদিল। তার বিশ্বাস, ভাগ্য সহায় হলে শেষবারের মতো মেসিকে জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে খেলতে দেখতে পারবেন।

৩৯ বছর বয়সী মেসি গত মাসে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী ৬ অক্টোবর বুয়েনস আয়ার্সের এস্তাদিও মনুমেন্তালে বেনিনের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হয়ে এটিই হতে যাচ্ছে মেসির শেষ ম্যাচ।

ইয়াদিলের কাছে ম্যাচের টিকিট না থাকলেও স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা থামছে না। আর্জেন্টিনায় প্রবেশের জন্যও তার দেশটির ভিসা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার মাধ্যমে দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ পাওয়ার আশা করছেন তিনি।

কেরালার কোদুঙ্গাল্লুরের বাসিন্দা ইয়াদিল মেসির এতটাই ভক্ত যে নিজের শহরে এক শিল্পীর সঙ্গে মিলে আর্জেন্টাইন তারকার বেশ কয়েকটি ম্যুরালও তৈরি করেছেন। এর আগে মেসিকে মাঠে খেলতে দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতেও গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে ইন্টার মায়ামির হয়ে মেসির খেলা দেখেন এই ভক্ত।

লন্ডন থেকে নিউইয়র্কের সংযোগকারী ফ্লাইটের অপেক্ষায় থাকার সময় খালিজ টাইমসকে ইয়াদিল বলেন, বেঙ্গালুরু থেকে লন্ডন পর্যন্ত ইতোমধ্যে ১১ ঘণ্টা ভ্রমণ করেছেন। এরপর নিউইয়র্ক হয়ে বুয়েনস আয়ার্সে পৌঁছাতে সব মিলিয়ে প্রায় ৩২ ঘণ্টা সময় লাগবে।

বেঙ্গালুরু ছাড়ার আগে বিমানবন্দর থেকে ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করেন ইয়াদিল। সেখানে প্রিয় তারকার ‘শেষ নাচ’ দেখার স্বপ্নের কথা জানান তিনি। বলেন, আর্জেন্টিনায় পৌঁছানোর পর স্টেডিয়ামে ঢুকতে পারবেন কি না, সেটিও তিনি জানেন না।

দেশে থাকা অবস্থায় টিকিটের খোঁজ নিয়েছিলেন ইয়াদিল। তার দাবি, টিকিটের দাম প্রায় ১ লাখ ভারতীয় রুপি পর্যন্ত উঠেছে। তবে নকল টিকিটের আশঙ্কাও রয়েছে। তাই এত টাকা খরচ করে শেষ পর্যন্ত ম্যাচে ঢুকতে না পারার ঝুঁকি নিতে চাননি তিনি। আর্জেন্টিনায় পৌঁছানোর পর টিকিট জোগাড়ের চেষ্টা করবেন।

নিজের টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম জানলেও ভাগ্য পরীক্ষা করতে চান ইয়াদিল। তার ভাষায়, এমন একটি মুহূর্তের সাক্ষী হতে হলে অবিশ্বাস্য ভাগ্য ও অনেক পরিশ্রম দুটোই প্রয়োজন। শেষ পর্যন্ত যদি স্টেডিয়াম থেকে মেসির শেষ ম্যাচটি সরাসরি দেখতে পারেন, সেটি তার জীবনের অন্যতম অবিস্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সাতটি ম্যাচই মাঠে বসে দেখেছিলেন ইয়াদিল। বিশ্বকাপজয়ী দলটির প্রতি তার ভালোবাসা আরও বেড়ে যায় সেই আসরের পর।

গত জুনে মেসির ৩৯তম জন্মদিনে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছিলেন ইয়াদিল। সেই পোস্টের জবাব দেন মেসি। আর্জেন্টাইন তারকার ‘Thank you, Yadil’ বার্তা পেয়ে আবেগে কেঁদে ফেলেছিলেন তিনি।

গত বছর দুবাইয়ে একটি অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে দেখা হওয়ার সময়ও একইভাবে আবেগাপ্লুত হয়েছিলেন ইয়াদিল। কেরালায় একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনাকারী এই ভক্তের মতে, বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দল গড়ে তোলার পেছনে স্কালোনির বড় ভূমিকা রয়েছে।

ইয়াদিল বলেন, মেসি এমন একজন খেলোয়াড়, যিনি একশ বছরে একবার আসেন। স্কালোনি বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে মেসির কাছ থেকে সেরাটা বের করে এনেছেন। তাই মেসির বার্তা পাওয়া কিংবা স্কালোনির সঙ্গে দেখা—দুই ঘটনাই তার জন্য অত্যন্ত আবেগের।

‘মেসি ও আর্জেন্টিনাই আমার হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। আমি বিশ্বকাপের এসব মুহূর্তের জন্যই বেঁচে থাকি।’

মেসির শেষ ম্যাচের টিকিট পাওয়া শেষ পর্যন্ত ইয়াদিলের ভাগ্যের ওপরই নির্ভর করছে। তবে টিকিট ছাড়াই হাজারো কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে প্রিয় তারকার শেষ ম্যাচের সাক্ষী হওয়ার এই চেষ্টা এরই মধ্যে তার মেসিপ্রেমের অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

সূত্র: খালিজ টাইমস

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: