• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পিএমআই সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট প্রজেক্ট পুরস্কার পেল ইন্টারন্যাশনাল ক্লাইমেট ক্যাম্প

প্রকাশিত: ১৩:৫১, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৩:৫১, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
পিএমআই সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট প্রজেক্ট পুরস্কার পেল ইন্টারন্যাশনাল ক্লাইমেট ক্যাম্প

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তরুণদের নেতৃত্ব, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের স্বীকৃতি হিসেবে ‘পিএমআই সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট প্রজেক্ট অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ পেয়েছে বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত আঞ্চলিক উদ্যোগ ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্লাইমেট ক্যাম্প’ (আইসিসি)।

পিএমআই বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের আয়োজনে ‘বাংলাদেশ প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ ‘প্রজেক্ট অব দ্য ইয়ার—সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট (স্মল প্রজেক্ট)’ বিভাগে আইসিসিকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনের গ্র্যান্ড বলরুমে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

দৃষ্টান্তমূলক প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, যৌথ বাস্তবায়ন এবং সমাজে ইতিবাচক ও পরিমাপযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আইসিসিকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

হিমালয়ে জলবায়ু নেতৃত্বের প্ল্যাটফর্ম
২০২৫ সালে যাত্রা শুরুর পর ২০২৬ সালে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করা হয় ইন্টারন্যাশনাল ক্লাইমেট ক্যাম্প। গত ৭ থেকে ১১ জুলাই নেপালের কাঠমান্ডু ও পোখরায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ২০০ জনের বেশি তরুণ প্রতিনিধি, গবেষক, আন্দোলনকর্মী ও জলবায়ু কর্মী অংশ নেন।

প্রচলিত শ্রেণিকক্ষের বাইরে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাম্পটি পরিচালিত হয়। এর মধ্যে ছিল আন্তঃসীমান্ত নীতি সংলাপ, মাঠপর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম, অ্যাকশন ল্যাব এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় যৌথ সমাধান প্রণয়ন।

ক্যাম্পে তরুণ প্রতিনিধিরা নেপালের নীতিনির্ধারক ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে অংশ নেন। পাশাপাশি চলন্ত বাসে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী কৃষক সম্প্রদায়ের সৌরশক্তি ও জৈব সার ব্যবহারের অভিজ্ঞতা পর্যবেক্ষণ এবং বান্দিপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন তারা।

পোখরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত অ্যাকশন ল্যাবে জলবায়ু রাজনীতি, প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা, শিল্পদূষণ এবং যুব নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। পরে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ দেশে বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন প্রচারণা ও কার্যক্রমের পরিকল্পনা তৈরি করেন।

ইন্টারন্যাশনাল ক্লাইমেট ক্যাম্প যৌথভাবে আয়োজন করে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সিথ্রিইআর), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, এশিয়ান পিপলস মুভমেন্ট অন ডেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এপিএমডিডি), ল্যান্ড আওয়ার ফিউচার নেপাল, সেন্টার ফর অ্যাটমোস্ফেরিক পলিউশন স্টাডিজ (ক্যাপস) এবং মিশন গ্রিন বাংলাদেশ। এ উদ্যোগে দেশি-বিদেশি আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল।

পুরস্কার পাওয়ার পর মিশন গ্রিন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি বলেন, এ স্বীকৃতি মাঠপর্যায়ের কাজ থেকে নীতিনির্ধারণ পর্যন্ত তাদের কাজের মডেলের গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা তরুণরা শুধু সংকটের দর্শক নয়, বরং সমাধানের অংশীদার—এই ধারণা থেকেই ক্যাম্পের যাত্রা শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ক্যাপসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ব্যবহারিক বিজ্ঞান, প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা ও তরুণদের নাগরিক অংশগ্রহণের সমন্বয়কে এই স্বীকৃতি তুলে ধরেছে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিথ্রিইআর-এর ডেপুটি ডিরেক্টর রউফা খানম বলেন, ইন্টারন্যাশনাল ক্লাইমেট ক্যাম্প প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণাকে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং নীতি সংলাপে নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়িয়েছে।

বিভি/কেএস/এজেড

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত