• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪

Inhouse Drama Promotion
Inhouse Drama Promotion

নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান, নোবেলের যে ইতিহাস আজও অজানা

প্রকাশিত: ২৩:৩৭, ৫ অক্টোবর ২০২২

আপডেট: ২৩:৪৪, ৫ অক্টোবর ২০২২

ফন্ট সাইজ
নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান, নোবেলের যে ইতিহাস আজও অজানা

দেখতে দেখতে সামনে হাজির বহু প্রতীক্ষিত সেই সপ্তাহ, যার দিকে বিজ্ঞানপ্রেমী, সাহিত্যপ্রেমী এবং অর্থনীতিতে আগ্রহী মানুষেরা তাকিয়ে থাকেন। শুরু হল বিজ্ঞান, সাহিত্য, শান্তি এবং অর্থনীতিতে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণার মহরৎ। ৩ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে ২০২২ সালের নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা।

নোবেল প্রাইজ কী এবং কেন?

পাঠকদের মধ্যে এ কথা অনেকেরই জানা যে, সুইডিশ রসায়নবিদ অ্যালফ্রেড বার্নহার্ড নোবেলের নামানুসারে এই পুরস্কারটির নামকরণ হয়েছে। অ্যালফ্রেড নোবেল, যিনি ডায়নামাইটের মতো বিধ্বংসী জিনিস আবিষ্কার করেছিলেন এবং পরবর্তীতে যা মানুষের কল্যাণেই কাজে লাগানো হয়েছিল, বিশ্বাস করতেন মানুষই সমাজের কল্যাণ করতে পারে। মানুষই সভ্যতার চাকাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে জ্ঞান, বিজ্ঞান এবং মানবতাবাদকে অস্ত্র করে। আর সেই জন্যেই তিনি বিজ্ঞান, সাহিত্য, এবং শান্তিতে সাড়া জাগানো কোনও আবিষ্কার এবং কাজকে পুরস্কৃত করার ব্যবস্থা করেন।

১৮৯৫ সালের ২৭ নভেম্বর নিজের শেষ উইলটি সাক্ষর করেন অ্যালফ্রেড বার্নহার্ড নোবেল। সেই উইলে নিজের বিপুল সম্পত্তির একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ নোবেল পুরস্কার দেওয়ার উদ্দেশ্যে দান করেন তিনি। আর তখন থেকেই নোবেল পুরস্কারের অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে ওঠে। নোবেল পুরস্কারের উদ্দেশ্যে দান করা তাঁর বিপুল সম্পত্তির দায়ভার আসে ‘নোবেল ফাউন্ডেশন’-এর কাঁধে এবং অবশ্যই নোবেল পুরস্কারের মূল উদ্দেশ্য যা, সেই লক্ষ্যপূরণের গুরুদায়িত্বও তাদের হাতেই বর্তায়। অ্যালফ্রেড নোবেলের ইচ্ছেপূরণের উদ্দেশ্যে এই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটির পথ চলা শুরু ১৯০০ সালে। ২০২২ সালে প্রতিটি নোবেল পুরস্কারের মূল্য দশ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনরের সমান। এই প্রতিবেদন লেখার সময়ে এক সুইডিশ ক্রোনার ভারতীয় মূল্য ছিল সাত টাকা চল্লিশ পয়সা।

ফিরে দেখা নোবেল পুরস্কার:

একশো বছরের বেশি সময় ধরে অগুনতি ঘটনাবহুল সময়ের সাক্ষী। তারই সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে, ১৯০০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ‘দ্য নোবেল ফাউন্ডেশন’-ও স্বর্ণাক্ষরে লিখে রেখেছে ৯৭৫ জন নোবেলজয়ীর (Nobel Laureates) নাম। এবং ১৯০১ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ৬০৯ টি নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে কখনও কখনও একটি নোবেল প্রাইজ একজনই পেয়েছেন, সেই সংখ্যাটি ৩৫৩ জন। কখনও বা একটি নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন দুই ব্যক্তি (১৪৬ জন), আবার কখনও তিন ব্যক্তি (১১০ জন)।

‘দ্য নোবেল ফাউন্ডেশন’-এর নিয়ম বলছে “A prize amount may be equally divided between two works, each of which is considered to merit a prize. If a work that is being rewarded has been produced by two or three persons, the prize shall be awarded to them jointly. In no case may a prize amount be divided between more than three persons.”

এ যাবৎ, অর্থাৎ ১৯০১ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ৫৮ জন মহিলা। নোবেলজয়ীদের মধ্যে কনিষ্ঠতম মালালা ইউসুফজা়ই, যিনি মাত্র সতেরো বছর বয়সে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন (নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০১৪)।

পদার্থবিদ্যায় সবচেয়ে কম বয়সে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন উইলিয়াম লরেন্স ব্র্যাগ। ১৯১৫ সালের ঘটনা। বয়স তখন তার মাত্র পঁচিশ। আর সবচেয়ে বেশি বয়সে নোবেল পেয়েছিলেন জন গুডেনহ। তখন তাঁর বয়স সাতানব্বই। খুব বেশি দিনের ঘটনা নয়, ২০১৯ সালেই তিনি আর্থার আশকিনের তৈরি সমস্ত রেকর্ড ভেঙেছিলেন। আর্থার পদার্থবিদ্যায় নোবেল পান ছিয়ানব্বই বছর বয়সে, ২০১৮ সালেই।

কোনও কোনও বছরে নোবেল পাননি একজনও! হ্যাঁ, এমন সময়ও গেছে যখন নোবেল পুরস্কার দেওয়াই হয়নি। এবং সেটা একবার-দু’বার নয়, ঊনপঞ্চাশবার। এবং এই সময়গুলোর বেশিরভাগ বছরগুলো জুড়েই চলেছে বিশ্বযুদ্ধ, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ অবধি; এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৪৫ অবধি। ‘দ্য নোবেল ফাউন্ডেশন’-এর নিয়ম বলছে, “If none of the works under consideration is found to be of the importance indicated in the first paragraph, the prize money shall be reserved until the following year. If, even then, the prize cannot be awarded, the amount shall be added to the Foundation’s restricted funds.”

নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান: 

১৯০১ সাল থেকে দুই ব্যক্তি স্বেচ্ছায় নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যার করেন। তাঁদের মধ্যে প্রথম জন হলেন, জ্যাঁ-পল সাঁত্রে; যিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হন ১৯৬৪ সালে। সেই সময়ে তিনি রকমের আনুষ্ঠানিক ভাবে দেওয়া সমস্ত পুরষ্কারকেই প্রত্যাখ্যান করছিলেন। দ্বিতীয় ব্যক্তি হলেন লে ডাক ঠো। ১৯৭৩ সালে লে এবং হেনরি কিসিংগার যুগ্মভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ভিয়েতনাম শান্তি চুক্তির আহ্বান করার জন্য। লে ডাক ঠো ভিয়েতনামের তৎকালীন অবস্থাকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন।


তবে স্বেচ্ছায় প্রত্যাখ্যান না করলেও, নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যানে বাধ্য করা হয়েছিল একাধিক ব্যক্তিত্বকে। হিটলার নিজেই রিচার্ড কুন, অ্যাডল্ফ বুটেনাড, এবং গেরহার্ড ডোম্যাককে নোবেল পুরস্কার নিতে নিষেধ করেছিলেন।

১৯৫৮ সালে রুশ কবি বোরিস প্যাস্টেরনাক সাহিত্যে নোবেল লাভ করেন। প্রাথমিক ভাবে নোবেল পুরস্কার নিলেও, সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতাদের চাপে পড়ে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য হন।

(সুত্র: ইন্সক্রিপ্ট.মি)

বিভি/এসআই

মন্তব্য করুন: