• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

Inhouse Drama Promotion
Inhouse Drama Promotion

উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার শেরপুর জেলা

প্রকাশিত: ১২:৫২, ২৫ নভেম্বর ২০২২

ফন্ট সাইজ
উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার শেরপুর জেলা

শেরপুর জেলাকে উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার বলে দাবি করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে (২৫ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শেরপুর জেলা উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে এই দাবি করেন বক্তারা। 

সমাবেশে বক্তারা ৮ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানায়। নাগরিক সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে শেরপুর জেলা উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই আন্দোলন কোন রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগোষ্ঠির বিরুদ্ধে নয়। 

উক্ত ৮ দফা দাবী শেরপুর জেলার দল-মত নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রাণের দাবী। বর্তমান সরকার সারাদেশে উন্নয়ন করলেও শেরপুর জেলায় তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি, যা আমাদের দাবীর মধ্যেই পরিস্কার বুঝা যায়। আমরা বর্তমান সরকারের কাছে দাবী করবো অন্যান্য জেলার ন্যায় আমাদের জেলাকে উন্নত জেলা হিসেবে তৈরী করতে ৮ দফা বাস্তবায়ন করবেন খুব দ্রুততার সাথে। 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বৈষম্যহীন ব্যবস্থাপনার তাগদা দিয়েছিলেন, কিন্তু আমরা শেরপুর জেলাবাসী উন্নয়ন বৈষম্যের স্বীকার। নাগরিক সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে ঢাকাস্থ শেরপুর জেলা সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, পেশাজীবি ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।

আয়োজনে বক্তারা বলেন, ঢাকা থেকে শেরপুরের দূরত্ব ১৮৫ কিলোমিটার, যেতে সময় লাগে ৮-১০ ঘন্টা, ভাড়া লাগে ৫০০ টাকা সর্বনিম্ন। অথচ যদি রেল যোগাযোগ থাকতো তাহলে খরচ পরতো সর্বনিম্ন ১০০ টাকা। আমরা শেরপুরবাসী সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা চাই না, আমরা অন্যান্য জেলার মতো বিশ্ববিদ্যালয়, রেলপথ, শিল্প উন্নয়ন পার্ক, স্থলবন্দর উন্নয়ন, মেডিকেল কলেজ এবং শেরপুর জেলাকে পর্যটন নগরী হিসেবে ঘোষণার দাবি জানায়। 

সংহতি প্রকাশ করে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ বলেন, গত ৯ অক্টোবর এই প্রেসক্লাবের সামনেই ৮ দফার দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর পর রেল মন্ত্রণালয় শেরপুর জেলার রেলপথ নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত করেছে। কিন্তু তার ফলাফল বা কার্যক্রম এখনো পরিলক্ষিত হয়নি। মানবিক সরকারের কাছে আমাদের দাবী শেরপুর জেলার জনগণের সাথে ন্যায়-বিচার এবং ন্যায্য দাবী বাস্তবায়ন করবেন।

৮ দফা দাবী হলো: ১) ঢাকা থেকে শেরপুর যাতায়াতের জন্য ময়মনসিংহ হয়ে শেরপুরের নকলা উপজেলার মধ্য দিয়ে শেরপুর সদর পর্যন্ত রেল সড়ক নির্মাণ। যা পরবর্তীতে শ্রীবরদী বকশীগঞ্জ ও রাজিবপুর রৌমারী পর্যন্ত প্রশস্ত করা যেতে পারে ২) আধুনিক উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি চিকিৎসার শাস্ত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি ৩) শেরপুর যেহেতু কৃষি সমৃদ্ধ এলাকা তাই এখানে কৃষি, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয়ে একটি আধুনিক উচ্চতর বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি ৪) শেরপুর শহরের নাগরিকদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করার লক্ষ্যে শেরপুর পৌরসভার পাশাপাশি নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নামে আলাদা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে এবং পর্যাপ্ত বরাদ্দ প্রদানের মাধ্যমে আধুনিক শহরে উন্নীতকরণ করার দাবি জানাচ্ছি ৫) ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণকে লক্ষ্য রেখে সরকার সারাদেশে ১০০ (একশ)টি আইটি পার্ক স্থাপন করছে। আমাদের দাবি শেরপুর জেলায় কৃষি উন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহার ও সীমান্ত রক্ষায় প্রযুক্তির উন্নয়নে একটি আইটি পার্ক স্থাপনের ৬) ১৯৯৬ সালে নাকোগাঁও স্থলবন্দর চালু হলেও এখানে যাতায়াতের উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়নি। আমাদের দাবি নাকোগাঁও স্থল বন্দরকে আধুনিক উন্নত স্থলবন্দরে রূপান্তর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক ৭) শ্রীবরদী, নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলাকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হোক ৮) শেরপুর জেলায় দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ, সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা ও অসৎ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।  

নাগরিক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, শেরপুর জেলা উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়কারী হাফিজুল করিম রুবেল, সুমন আহমেদ, এ্যাড. মোঃ মোস্তফা কামাল বাদল, আবুল কাসেম মজুমদার, অধ্যাপক মাসুদুর রহমান বাদল, সুমন আহমেদ, ফরহাদ সরকার, আনোয়ার হোসেন, মোঃ সুমন মোল্লা, মেজবাউর রহমান সোহেল, নজরুল ইসলাম, মোঃ রোকন, মোতালেব মিরাজ, সোহেল রানা, মোঃ জসিম শেখ, মাহমুদুল হাসান, নুর আলম মন্ডল, খান শফিক, তনু হাফিজ প্রমুখ।
 

বিভি/এসআই

মন্তব্য করুন: