• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

জমি সংক্রান্ত দ্বন্দের জেরে হামলায় গুরুতর জখম শিক্ষক

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:১৭, ৫ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
জমি সংক্রান্ত দ্বন্দের জেরে হামলায় গুরুতর জখম শিক্ষক

কুষ্টিয়ার মিরপুরে জমি সংক্রান্ত দ্বন্দের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন কলেজ শিক্ষকের ওপর হামলা চালিয়ে হাতুরি রড ও লাঠিসোটাসহ দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর রক্তাক্ত জখমের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার আজমপুর হাইস্কুলের নিকটস্থ ব্রীজের উপর এই হামলার ঘটনা ঘটে। 

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ১০নং সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন গুরুতর আহত মোকলেচুর রহমান উপজেলার নওদা আজমপুর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের প্রভাষক। তিনি নওদা আজমপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মৃত খবির উদ্দিন খাঁনের ছেলে। কলেজ শেষে সহকর্মী অপর প্রভাষক আল আমীনকে সাথে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফেরার পথে এই হামলার শিকার হন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আহত শিক্ষকের সহকর্মী আল আমীন জানান, কলেজ থেকে আমরা দু’জন একসাথে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সামনে ও পিছন থেকে ৭-৮টি মোটরসাইকেলে ১৫/১৬ জন লোক এসে আমাদের পথরোধ করে দাঁড়ায়। এসময় তাদের হাতে হাতুরি, রড, লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রসহ মোকলেচুরের ওপর হামলা করে বেদম মারধর করে। আমি ঠেকাতে গেলে ওরা আমাকেও মারধর করে। একপর্যায়ে মোকলেচুর মাটিতে পড়ে গেলেও ওরা এলোপাতারি মারধর করতে থাকে। এসময় আশপাশ থেকে স্থানীয়রা ছুটে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। 

এসময় গুরুতর আহত মোকলেচুর কে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। 

হামলার শিকার শিক্ষক মোকলেচুরের অপর সহকর্মী ও চাচাতো ভাই সরোয়ার উদ্দিন খাঁন বলেন, হামলাকারীদের নেতৃত্বদানকারী একই বংশীয় কোহিনুর খাঁনের ছেলে মিজান আলী খাঁনের সঙ্গে একটা জমি ক্রয় বিক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দ্বন্দ চলে আসছিলো। তার জেরে বেশ কিছুদিন আগে থেকেই হতেই মিজান আলী খাঁন নানা ভাবে হুমকি ভয়ভীতি দিয়ে আসছে। আজকে মিজান তার দলবল নিয়ে সত্যিই হামলা করেই বসলো।

এ বিষয়ে নওদা আজমপুর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ সহিদুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি জানান, আজ কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে আমাদের শিক্ষক মোকলেচুরের উপর যে বর্বরোচিত হামলা হয়েছে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ঘটনার পরই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লিখিত ভাবে অবগত করেছি প্রতিকার চেয়ে। এখন দেখা যায় পুলিশ কি করেন।

তবে এবিষয়ে মন্তব্য জানতে অভিযুক্ত মিজান আলী খাঁনের মুঠোফোনে কল দিয়ে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, একজন শিক্ষককে হাতুড়ি পিটুনি দিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখমের সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব থেকেই জমি জায়গা সংক্রান্ত বিষয়ে বিবদমান দ্বন্দের জেরে এই হামলা ঘটে থাকতে পারে। যারাই এই ঘটনায় জড়িত থাক তাদের গ্রেফতার করা হবে। তবে
এবিষয়ে এখনও কোন অভিযোগ নিয়ে কেউ থানায় আসেনি।
 

বিভি/এসজি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত