• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

প্রকৌশলী সৌমিকের মৃত্যু: নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি পরিবারের

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮:৩১, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৮:৩২, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
প্রকৌশলী সৌমিকের মৃত্যু: নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি পরিবারের

যে ১৫ অক্টোবর প্রকৌশলী মো. আরিফ শাহরিয়ার ভূঁইয়া সৌমিকের জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হওয়ার কথা ছিল, সেদিনই তাঁর নিথর দেহ পরিবারকে দেখতে হবে এটা মেনে নেওয়া যায় না। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে আজ রবিবার সংবাদ সম্মেলন করেছে শোকাহত পরিবার।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে শহরের নিউ মার্কেটের ফিরোজা মার্কেটের ২য় তলায় দেশি ভোজের কনফারেন্স রুমে এই সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, চিকিৎসার নামে অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একজন মানুষের জীবন নিয়ে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই হবে।

উল্লেখ্য, সৌমিক গাইবান্ধা পৌর এলাকার ডেভিড কোম্পানি পাড়ার বাসিন্দা এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল (ইইই) বিভাগ থেকে ফার্স্ট ক্লাস সেকেন্ড হয়ে সদ্য স্নাতক পাস করেছিলেন।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় এক মাস আগে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পর চার দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন সৌমিক। গত ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার, তাঁর গায়ে হলুদের দিন সকালে তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে শহরের মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র দিলে তাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। বিকেলে অবস্থার অবনতি হলে সন্ধ্যায় গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর প্রায় এক ঘণ্টা রিকশার উপরেই বসে থাকতে হয় সৌমিককে। কারণ তখন হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আগে টিকিট কেটে নিয়ে আসেন, তারপর রোগী দেখব।’ টিকিট কাটার এই প্রক্রিয়ায় সময় ক্ষেপণের ফলে প্রায় এক ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসা ছাড়াই রিকশায় বসে থাকতে হয় তাকে। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরদিন ১৬ অক্টোবর শুক্রবার তাঁর বিয়ের দিন ধার্য ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবার তিন দফা দাবি জানায়:
১. সৌমিকের মৃত্যুর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।
২. চিকিৎসায় অবহেলা বা দায়িত্বহীনতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবার অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

শেষে বলা হয়, আর কোনো পরিবার যেন এভাবে প্রিয়জন হারানোর অসহনীয় যন্ত্রণায় না ভোগে।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত