দুই শিশুকে গলাকেটে হত্যা, মামা আটক

মানসিক প্রতিবন্ধী মামা ও নিহত দুই শিশু
নানার বাড়ি বেড়াতে আসা দুই শিশুকে গলাকেটে হত্যা করেছে তাদের মামা। সে মানসিক বিকারগ্রস্ত প্রতিবন্ধী বলে পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছে। সোমবার (৭ মার্চ) ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের উচাখিলা ইউনিয়নের কাজীর বলসা গ্রামে দুপুরে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে ছয় বছরের শিশু সায়মা আক্তার নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার বড়ইতাতি গ্রামের রাজিবের মেয়ে। আর চার বছর বয়সী তৃপ্তি নান্দাইল উপজেলার কাদিরপুর গ্রামের শিবলু মিয়ার মেয়ে। সায়মার মা সালমা আক্তার ও তৃপ্তির মা হালিমা আক্তার সহোদর বোন। তাদের ভাই হত্যাকারী মাহবুব মিয়া মানসিক বিকারগ্রস্ত হওয়ার আগে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. আবদুল কাদির মিয়া জানান, ঈশ্বরগঞ্জের উচাখিলা ইউনিয়নের কাজীর বলসা গ্রামের আব্দুস সালামের দুই মেয়ের মধ্যে একজনকে বিয়ে দেয় নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা ও অপরজনক ময়মনসিংহের নান্দাইলে। এই দুই মেয়ে তাদের দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসে। সোমবার বেলা ১২টার দিকে ওই শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করার সময় মানসিক বিকারগ্রস্ত মামা মাহবুব ওই দুই শিশুকে দা দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে মেঝেতে ফেলে রাখে। এসময় তাদের আর্তনাদে তাদের মা ও পরিবারের লোকজন শিশুদের রক্তাক্ত গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পরিবারের লোকজন হত্যাকারী মাহবুবকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
হত্যকারী মাহাবুবের ছোটভাই সাদেকুর রহমান জানান, দাখিল পাশ করে মাহাবুব নান্দাইল উপজেলার একটি কওমি মাদরাসায় ভর্তি হয়েছিল। কিন্তু সেখানে সে পাগলের মত আচরণ করায় তাকে মাদরাসা থেকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
এরপর তাকে বেশ কয়কে বার ডাক্তারি ও কবিরাজি চিকিৎসা করানো হলেও ভালো হয়নি। সেই থেকে সে অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে অবস্থান করছে।
সাদেকুর আরো জানান, প্রায়ই সে বাড়ি থেকে এদিক-সেদিক চলে যেত। গতকালও সে বাড়িতে বের হয়ে রাতে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। তবে আজ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বাড়ী ফিরে আসে। এ সময় নিহত শিশু ভাগ্নিরা বাড়ির উঠানে খেলা করছিল। সেখান থেকে মাহাবুব তাদের ডেকে ঘরের ভেতর নিয়ে গিয়ে দা দিয়ে গলাকেটে তাদের হত্যা করে।
বিভি/এআর/এইচএস
মন্তব্য করুন: