• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা বকেয়া কর আদায়ের নির্দেশ স্থগিত

প্রকাশিত: ১৮:০১, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৮:০১, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা বকেয়া কর আদায়ের নির্দেশ স্থগিত

পাঁচ করবর্ষের বিপরীতে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা বকেয়া কর আদায়ে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। রবিবার (১৮ অক্টোবর) গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি লিভ টু আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়।

আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি লিভ টু আপিল শুনানির জন্য আগামী ১৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, হাইকোর্টের নির্দেশ স্থগিত হওয়ায় আপাতত বকেয়া কর আদায়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। লিভ টু আপিল নিষ্পত্তির মাধ্যমে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।

রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচটি করবর্ষের বিপরীতে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে এই কর দাবি করা হয়েছে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি রিট খারিজ করে রায় দেন। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় ১২ অক্টোবর প্রকাশিত হয়।

রায়ের একটিতে আইন অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে বকেয়া কর আদায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারসহ বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অন্য রায়ে বকেয়া করসংক্রান্ত বিষয়ে নোটিশ জারির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা ছিল। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত রায়ের এই নির্দেশনাগুলো স্থগিত করেছেন।

আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, আবদুল্লাহ আল মামুন ও সরদার জিন্নাত আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান।

যেভাবে কর দাবি নিয়ে বিরোধ
আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ কল্যাণ ও গ্রামীণ টেলিকমের মধ্যে একটি চুক্তির আওতায় গ্রামীণফোনে বিনিয়োগ করা হয়। চুক্তি অনুসারে, শেয়ার থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশের ওপর অর্জিত মুনাফার ৪২ দশমিক ৬৫ শতাংশ পাওয়ার কথা গ্রামীণ কল্যাণের।

তবে গ্রামীণ কল্যাণের পাওয়া অর্থ লভ্যাংশ আয়, নাকি অন্যান্য উৎস থেকে আয়—তা নিয়ে কর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। কর কর্তৃপক্ষের মতে, ওই অর্থকে লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচনা না করে সুদ বা বিনিয়োগ থেকে অর্জিত আয় হিসেবে অন্যান্য উৎসের আয় গণ্য করা উচিত।

এই বিরোধের জেরে পুনর্মূল্যায়নের পর পাঁচ করবর্ষের কর দাবি নিয়ে কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট করে গ্রামীণ কল্যাণ।

২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রিট দুটি নিয়ে নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণসহ রায় দেন। ওই রায়ে কর কমিশনারের আদেশ বাতিল করে বিলম্ব মার্জনা সাপেক্ষে শর্ত পূরণ করে ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

পরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে পৃথক লিভ টু আপিল করে। আপিল বিভাগ ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আদেশ দিয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা রিটের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে হাইকোর্টে পুনরায় শুনানির নির্দেশ দেন।

এর ধারাবাহিকতায় হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রিট দুটি খারিজ করে রায় দেন। তবে একই বছরের ২৯ আগস্ট রায়টি প্রত্যাহার করা হয়। সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের দ্বিতীয় বিচারক আগে এসব মামলায় সরকারপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় রায়টি ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। পরে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়।

প্রধান বিচারপতি গত ১৩ মে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চে পাঠান। ওই বেঞ্চের দেওয়া সর্বশেষ রায়ের নির্দেশনা অংশের কার্যকারিতাই এবার স্থগিত করলেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

উল্লেখ্য, গ্রামীণ কল্যাণের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত