রাতের আঁধারে ধরন্ত বড়ই গাছের ডাল কেটে ফেললো দুর্বৃত্তরা!
রাজবাড়ীতে রাতের আঁধারে এক বড়ই চাষির ধরন্ত বড়ই গাছের ডাল কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। এতে প্রায় ৩০ মণ বড়ই ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত বড়ই চাষি নাজিম শেখ।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের মহারাজপুর গ্রামে নিজের বড়ই বাগানে গিয়ে ডাল কাটা দেখতে পান নাজিম শেখ। তিনি ওই গ্রামেরই বাসিন্দা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদ্য কেটে ফেলা ডালে ঝুলে থাকা অপরিপক্ক বড়ইগুলো ধরে আর্তনাদ করে কাঁদছেন চাষি নাজিম শেখ ও তার স্ত্রী রাবিয়া বেগম।
নাজিম শেখ বলেন, ৮ বিঘা জমি লিজ নিয়ে আমি ১০ বছর ধরে বড়ই (বল সুন্দরী কুল) বাগান করে আসছি। গতকাল দিনভর বড়ই গাছের পরিচর্যা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে বাড়ি যাই। সকাল ৮ টার দিকে বাগানে এসে দেখি ১০ টি ধরন্ত বড়ই গাছের প্রায় ৩০ টি ডাল কাটা। ডালগুলোতে প্রায় ৩০ মণ অপরিপক্ক বড়ই রয়েছে। আর মাত্র ১৫ থেকে ২০ দিন পর বড়ইগুলো বিক্রির উপযোগী হতো। ৩০ মণ বড়ই এক লাখ ২০ হাজার টাকা বিক্রি করে যেত। কিন্তু রাতের আঁধারে আমার সর্বনাশ করে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী রফিকুল ইসলামের সাথে আমার জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। আমার ধারণা রফিকুল ও তার মা রহিমা এই কাজ করে থাকতে পারে। কারণ এর আগেও তারা জমি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে আমার ভাগিনা আব্দুর রহমানের দুই বিঘা জমির প্রায় ২০০ বড়ই গাছ কেটে ফেলে। ওই ঘটনায় মামলা করলে তারা জরিমানা দিয়ে আপোস করে।
নাজিম শেখ বলেন, আমার গায়ে যদি কোপ দিতো তাহলে আমি এতো কষ্ট পেতামনা। কিন্তু আমার ধরন্ত বড়ই গাছের ডাল কেটে ফেলেছে, এতে আমার কলিজাটা ছিড়ে যাচ্ছে। কারণ আমি আমার সন্তানের মতো করে গাছগুলোকে যত্ন করি। আমি এ ঘটনায় মামলা করবো। দোষীদের যাতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়- পুলিশ প্রশাসনের কাছে এই দাবি জানাই।
নাজিম শেখের স্ত্রী রাবিয়া বেগম বলেন, ধরন্ত ফল গাছের ডাল যারা কেটেছে তারা মানুষ নামের অমানুষ। আমি তাদের বিচার চাই।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জনি খান বলেন, বড়ই চাষি নাজিম শেখের বাগানে গাছের ডাল কাটার বিষয়টি শুনে আমরা বাগান পরিদর্শন করেছি। এটি একটি ন্যাক্কারজনক কাজ। কারণ গাছ বা ফল-ফসলের সঙ্গে কারো কোন শত্রুতা থাকতে পারেনা। চাষি নাজিম শেখ যেন ন্যায় বিচার পান এজন্য আমরা তাকে সহযোগীতা করবো।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার জিয়াউর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিভি/এজেড




মন্তব্য করুন: