• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬

শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বেলাল; তদন্তে দুদক

প্রকাশিত: ২০:৫৪, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২০:৫৫, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বেলাল; তদন্তে দুদক

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে জ্ঞাত আয়ের বাইরে শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। 

বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে এলজিইডিরই এক কর্মকর্তার দুদকে করা অভিযোগে এমন তথ্য উঠে এসেছে। 
 
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বেলাল হোসেন একজন নিম্ম মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে এলজিইডিতে যোগদান করেন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের নির্দেশে প্রায় ৪০টি কাজ না করিয়ে শতভাগ বিল উত্তোলন করেন বেলাল হোসেন। পরবর্তীকালে তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) থাকা অবস্থায় সেসময় না করা রাস্তাগুলোর ওপর পুনরায় বরাদ্দ প্রদান করে কাজ সম্পন্ন করেন। এখনও সেসময়ের অনেক ব্রিজ ও কালভার্টের কাজ অসম্পন্ন রয়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বেলাল হোসেন দীর্ঘ সময় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) পদে চাকরি করেছেন। সেসময় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সুপারিশে প্রায় ১১২৫জন ছাত্রলীগ কর্মীকে এলজিইডিতে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে চাকরি প্রদান করেন। সেসময় তাদের কাছে ঘুষ হিসেবে পদ অনুযায়ী পঞ্চাশ হাজার থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত গ্রহণ করার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও তিনি সার্ভেয়ারদের কাছ থেকে ১০/১৫লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করে উপসহকারী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্বে), উপসহকারী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত), উপসহকারী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্বে) পদায়ন করেন। এমনকি কার্য সহকারীকেও তিনি উপসহকারী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্বে, ভারপ্রাপ্ত ও অতিরিক্ত দায়িত্ব) পদে পদায়ন করেন। সারাদেশে প্রায় ৪১২ জনকে এইভাবে অবৈধ পদোন্নতি দিয়ে ৪০/৬০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন বেলাল। জনপ্রতি ১০/১৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে অবৈধভাবে বদলি বাণিজ্য করার অভিযোগও রয়েছে বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে। 

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বেলাল হোসেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থাকাকালীন এলজিইডির মাঠ পর্যায়ের দুর্নীতি স্বর্ণযুগে পৌঁছায়। তার সময় যত ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও কাজ না করে বিল উত্তোলনের অভিযোগ উপস্থাপিত হয়েছে তার কোনটিরই তিনি বিভাগীয় মামলা রুজু করেননি। তখন থেকেই, দুর্নীতি দমন কমিশন বাধ্য হয়ে একসাথে একযোগে ৩ জেলায় অভিযান পরিচালনা করে। 

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অবৈধ আয়ের মাধ্যমে বেলাল হোসেন রাজধানীর মিরপুর-১০ এ ২৬০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট ক্রয় করেন। এছাড়াও পূর্বাচলে ৫ কাঠার প্লট, রংপুর জেলার ধাপ এলাকায় ৬ কাঠা জমির ওপর দুই ইউনিটের ৫ তলা বাড়ি, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে প্রায় ২১০ বিঘা কৃষিজমি ও রাজধানীর মিরপুর-২ এ ১৫০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট রয়েছে বেলাল হোসেনের।

তবে, অভিযোগের বিষয়ে বেলাল হোসেনকে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকী তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করে তার মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা পাঠালেও কোনো জবাব দেননি তিনি।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত
Drama Branding Details R2
Drama Branding Details R2