• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিশু কলি ধর্ষণ ও হত্যা: অভিযুক্ত মোস্তফার বাড়ি গুড়িয়ে দিলো বিক্ষুব্ধ জনতা

প্রকাশিত: ২৩:১২, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ২৩:১২, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
শিশু কলি ধর্ষণ ও হত্যা: অভিযুক্ত মোস্তফার বাড়ি গুড়িয়ে দিলো বিক্ষুব্ধ জনতা

পাবনায় শিশু শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি (১০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার প্রধান অভিযুক্ত মোস্তফা কামালের (৫৫) বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজ শেষে বিকেল ৩টার দিকে আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে শত শত মানুষ মোস্তফা কামালের বাড়ির সামনে জড়ো হন। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা হাতুড়ি, শাবল ও সিমেন্টের খুঁটি দিয়ে বাড়ির মূল ফটক ও সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলেন। একপর্যায়ে তারা বাড়ির ভেতরে ঢুকে আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন।

এ সময় অনেককে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে অন্যদেরও হাতুড়ি-শাবল নিয়ে ঘটনাস্থলে আসার আহ্বান জানাতে দেখা যায়। শত শত নারীও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি ও ফাঁসির দাবি জানান।

বিক্ষুব্ধদের দাবি, প্রশাসন যদি এ হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে অভিযুক্তদের তাদের হাতে তুলে দিতে হবে।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার আগে থেকেই সেখানে পুলিশ মোতায়েন ছিল। তবে বিপুলসংখ্যক মানুষের তুলনায় পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বাধা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

যেভাবে নিখোঁজ হয় কলি
গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পাবনা সদর উপজেলার কুলুনিয়া গ্রামের স্থানীয় আল ফালাহ একাডেমির চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি বাড়ি থেকে আইসক্রিম কিনতে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। এরপর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধান শুরু করেন।

নিখোঁজের সাত দিন পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় কলির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় কলির বাবা কামাল প্রামাণিক বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় মামলা করেন। পরে প্রতিবেশী মোস্তফা কামাল ও তার বাড়ির ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে মোস্তফা ও ইয়াছিন কলিকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ধর্ষণের একপর্যায়ে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশ আরও জানায়, বস্তায় মরদেহ ভরতে গিয়ে আটকে যাওয়ায় দুই পা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বিচ্ছিন্ন করা হয়। কয়েক দিন মরদেহটি ঘরের ভেতরে রাখার পর দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে সেটি বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করেন অভিযুক্তরা। পথে কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়ে তারা মরদেহটি পাশের ডোবায় ফেলে দেন।

এরপর ঘরের মেঝে স্যাভলন দিয়ে পরিষ্কার করে আলামত নষ্টের চেষ্টা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তের অংশ হিসেবে মোস্তফার ঘরে গেলে পুলিশ স্যাভলনের গন্ধ পায়। এরপর সন্দেহের ভিত্তিতে প্রথমে মোস্তফা এবং পরে ইয়াছিনকে আটক করা হয়।

আদালতে রিমান্ড আবেদন
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ।

এদিকে শুক্রবার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। আদালত রোববার রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর পাবনা শহরে কলির সন্ধানের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনেও প্রধান অভিযুক্ত মোস্তফা অংশ নিয়েছিলেন বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: