• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের জন্য টাকা ফেরতের সুখবর

প্রকাশিত: ০১:০৫, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ০১:০৬, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের জন্য টাকা ফেরতের সুখবর

বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা চারটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে স্কিম তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রাথমিকভাবে ব্যক্তি আমানতকারীদের সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত মূল অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এর বেশি আমানত থাকলে নির্ধারিত হারে অর্থ কেটে বাকি টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

সভা সূত্রে জানা গেছে, চার প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি আমানতকারীদের ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরো মূল অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এর বেশি আমানত থাকলে নির্ধারিত হারে অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।

যে হারে টাকা ফেরত পাবেন

৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত: আমানতকারী সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা ফেরত পাবেন।

১ কোটি থেকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত: প্রথম ১ কোটি টাকার জন্য ৮০ লাখ টাকা এবং অতিরিক্ত অংশের ৫০ শতাংশ ফেরত দেওয়া হবে। যেমন, কারও আমানত ১ কোটি ২০ লাখ টাকা হলে তিনি ৮০ লাখ টাকা এবং অতিরিক্ত ২০ লাখের ৫০ শতাংশ অর্থাৎ ১০ লাখ টাকা পাবেন। মোট ফেরত পাবেন ৯০ লাখ টাকা।

দেড় কোটি থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত: প্রথম দেড় কোটি টাকার জন্য ১ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং অতিরিক্ত অংশের ৪০ শতাংশ ফেরত দেওয়া হবে। যেমন, ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা আমানত থাকলে প্রথম দেড় কোটি টাকার বিপরীতে ১ কোটি ৫ লাখ এবং অতিরিক্ত ৩০ লাখের ৪০ শতাংশ অর্থাৎ ১২ লাখ টাকা পাবেন। মোট ফেরত পাবেন ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

২ কোটি টাকা বা তার বেশি: প্রথম ২ কোটি টাকার জন্য ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং এর অতিরিক্ত অংশের ৩০ শতাংশ ফেরত দেওয়া হবে। উদাহরণ হিসেবে, ৩ কোটি টাকা আমানত থাকলে প্রথম ২ কোটি টাকার জন্য ১ কোটি ২৫ লাখ এবং অতিরিক্ত ১ কোটি টাকার ৩০ শতাংশ অর্থাৎ ৩০ লাখ টাকা পাবেন। সব মিলিয়ে ফেরত পাবেন ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

যে চার প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রক্রিয়ায়
বাংলাদেশ ব্যাংকের স্কিমের আওতায় থাকা চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলো—আভিভা ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।

গত ৯ আগস্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরে চার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রশাসকদের সহায়তায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে আরও দুজন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা চার প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চার প্রতিষ্ঠানে মোট আমানতের পরিমাণ ১২ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৩ হাজার ১২ কোটি, আভিভা ফাইন্যান্সে ৫ হাজার ৩৬৮ কোটি, এফএএস ফাইন্যান্সে ১ হাজার ২৪৬ কোটি এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্সে ৪৪৯ কোটি টাকা আমানত রয়েছে।
 

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত