টালমাটাল স্বর্ণের বিশ্ববাজার, আবারও ঊর্ধ্বমুখী দাম
টানা দুই দফায় কমার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা বৃদ্ধি এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনার মধ্যেই শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মূল্যবান এই ধাতুর দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। তবে দৈনিক দর বাড়লেও সাপ্তাহিক হিসাবে স্বর্ণের দাম কমেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার স্পট গোল্ডের দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩০৩ দশমিক ১৯ ডলারে উঠেছে। তবে সপ্তাহের হিসাবে স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় ১.৭ শতাংশ। এদিন যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারের দামও ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৩৯ ডলারে স্থির হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার আশা জাগায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। এর প্রভাব স্বর্ণের বাজারেও পড়েছে। ট্রেডইউ ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবোরাস বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা এসেছে।
তবে স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার ও বন্ডের মুনাফা বৃদ্ধি। সুদ না দেওয়া সম্পদ হওয়ায় সুদের হার বাড়লে সোনা ধরে রাখার সুযোগ-ব্যয় বেড়ে যায়। ফলে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ তুলনামূলকভাবে সুদনির্ভর সম্পদের দিকে ঝুঁকতে পারেন।
গত সপ্তাহে দীর্ঘ প্রায় তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ফেডারেল রিজার্ভ নীতিগত সুদের হার ০.২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। শিকাগো মার্চেন্টাইল এক্সচেঞ্জের ‘ফেডওয়াচ’ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে অক্টোবরে আরও এক দফা সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৭১ শতাংশ এবং ডিসেম্বরের মধ্যে বাড়ার সম্ভাবনা ৯৫ শতাংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাধারণত মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে নিশ্চিত মুনাফা পাওয়া যায়—এমন সম্পদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে পারে। এতে স্বর্ণের চাহিদায় চাপ তৈরি হয়।
এদিকে উৎসবের মৌসুম সামনে রেখে স্বর্ণের দাম কিছুটা কম থাকায় ভারতে চলতি সপ্তাহে এর চাহিদা সামান্য বেড়েছে। একই সময়ে মার্কিন ডলারের সূচক ০.৩ শতাংশ কমেছে। ফলে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী বিনিয়োগকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ কেনা তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হয়েছে।
জাবোরাসের মতে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতি বা ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হলে বিনিয়োগকারীরা আবারও স্বর্ণের মতো ভৌত সম্পদের দিকে ঝুঁকতে পারেন। সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাহিদা ও বিনিয়োগ প্রবাহের ওপর নির্ভর করে বছরের শেষ প্রান্তিকে স্বর্ণের বাজারে আবারও শক্তিশালী চাহিদা দেখা যেতে পারে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে শুক্রবার স্পট সিলভারের দাম ১.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৪ দশমিক ৮২ ডলার এবং প্ল্যাটিনামের দাম ১.৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৭৭ দশমিক ৩৮ ডলারে উঠেছে। বিপরীতে প্যালাডিয়ামের দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৬৯ দশমিক ৭৭ ডলারে নেমেছে। তবে সপ্তাহের হিসাবে এই তিন ধাতুর দামই কমেছে।
সূত্র: রয়টার্স
বিভি/টিটি













মন্তব্য করুন: