বিটকয়েনের বাজারে সবচেয়ে বড় চুরি: দিনভর কী ঘটেছে বাইন্যান্সে?
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সে সাইবার হামলায় ৬৩০ কোটি ডলারের ডিজিটাল সম্পদ হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে। ঘটনাটিকে ক্রিপ্টোকারেন্সি শিল্পের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হ্যাকিংয়ের ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের প্রায় অর্ধেক জব্দ করা গেলেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এখনো হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাইন্যান্স জানায়, প্রাথমিক তদন্তে একজন প্রকৌশলীর হ্যাক হওয়া ল্যাপটপের সঙ্গে হামলার যোগসূত্র পাওয়া গেছে। ওই ডিভাইস ব্যবহার করে অনুমতি ছাড়াই অর্থ উত্তোলন করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব ধরনের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাজারে বড় দরপতন
সংক্ষেপে বললে, বিটকয়েনসহ পুরো ক্রিপ্টো বাজারে বিক্রির চাপ বেড়েছে। এর পেছনে সবচেয়ে আলোচিত কারণ বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সেকে ঘিরে বড় ধরনের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের খবর।
বিটকয়েনের দাম কতটা কমেছে?
রয়টার্সের ৩০ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী:
বিটকয়েনের দাম নেমে এসেছে প্রায় ৭৭ হাজার ৬৪৬ ডলারে।
ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে এটি।
ইথেরিয়ামের দাম নেমেছে প্রায় ২ হাজার ২৩৮ ডলারে।
বাইন্যান্সের নিজস্ব কয়েন BNB-ও ২৪ ঘণ্টায় ৮ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে।
বাইন্যান্সে কী হয়েছে?
বাজারে আতঙ্কের বড় কারণ বাইন্যান্সের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাইন্যান্সের নিরাপত্তাব্যবস্থায় বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের ডিজিটাল সম্পদ আক্রান্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর এসেছে। তবে ঠিক কত সম্পদ চুরি হয়েছে, কতটা আটকে দেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং গ্রাহকদের প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ কত—এসব বিষয়ে তদন্ত ও হিসাব এখনো গুরুত্বপূর্ণ। রয়টার্স জানিয়েছে, বাইন্যান্স ২৫০ কোটির বেশি ডলারের সম্পদ ফ্রিজ করার কথা বলেছে।
এত বড় পতন কেন হলো?
এখানে তিনটি বিষয় একসঙ্গে কাজ করছে:
আস্থার সংকট: বাইন্যান্সের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
বড় অঙ্কের লিকুইডেশন: দাম কমতে থাকায় ধার করা অর্থ দিয়ে বিটকয়েনে বিনিয়োগ করা অনেক ট্রেডারের পজিশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়েছে। ৩০ অক্টোবর ক্রিপ্টো ফিউচার মার্কেটে প্রায় ১৫৭ কোটি ডলারের পজিশন লিকুইডেট হওয়ার খবর দিয়েছে CoinDesk।
বিশ্ববাজারের চাপ: প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে দুর্বলতা এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত কঠোর অবস্থানও ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে চাপ তৈরি করেছে।
এ ঘটনাকে এখন পর্যন্ত নথিভুক্ত সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি হিসেবে বিবেচনা করছে ব্লকচেইন বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবস। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, ১০টি ব্লকচেইনে থাকা বাইন্যান্সের বিভিন্ন ওয়ালেট থেকে প্রায় ৬৩৬ কোটি ডলারের সম্পদ সরিয়ে নেওয়া হয়। এর বেশির ভাগই মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে স্থানান্তর করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টিআরএম ল্যাবস উচ্চমাত্রার আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠী ‘ট্রেডারট্রেইটর’ এ হামলা চালিয়েছে। ব্লকচেইনের ভেতরের ও বাইরের বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে তারা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। হামলার কৌশল ও বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট আগের সাইবার হামলার মিল রয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এখন কি আরও দরপতন হবে?
এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। বাইন্যান্সে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিনিয়োগকারীদের আস্থা, বড় বিনিয়োগকারীদের লেনদেন এবং বাজারে লিকুইডেশনের চাপ—এসবের ওপর পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করবে। সূত্র: রয়টার্স, কয়েনডেস্ক
বিভি/এজেড













মন্তব্য করুন: