• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন

১০ বছরে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের বকেয়া বেড়েছে ৩ গুণ

প্রকাশিত: ১৪:৩৬, ৮ নভেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
১০ বছরে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের বকেয়া বেড়েছে ৩ গুণ

গত এক দশকে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ জ্যামিতিক হারে বেড়েছে। ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যকার ১০ বছরে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণস্থিতি প্রায় তিন গুণ হয়ে ১১৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। 

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর)  প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেট রিপোর্ট-২০২৬-এ বাংলাদেশসহ সদস্য দেশগুলোর ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিদেশি ঋণের পরিসংখ্যান রয়েছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের চাপ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনীতিতে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ঋণ বাড়ার পাশাপাশি আসল ও সুদ পরিশোধের ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এতে করে দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। 

বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে উল্লেখিত বাংলাদেশ সম্পর্কিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৫ সালে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণ ছিল ৩৮ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। ২০১৭ সালে তা ৫১ বিলিয়ন ছাড়ায়। ২০২১ সালে মোট ঋণ দাঁড়ায় ৯১ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলারে। ২০২৫ সালে এসে ১১৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। এতে করে এক দশকে বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ১৯২ শতাংশ।

প্রকাশিত পরিসংখ্যান বলছে, গত এক দশকে দীর্ঘমেয়াদি সরকারি ঋণের ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল সবচেয়ে দ্রুত। ২০১৫ সালে সরকারের নেওয়া দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি ঋণের স্থিতি ছিল ৪ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলারে। বেড়েছে সাড়ে সাত গুণেরও বেশি। একই সময়ে বহুপক্ষীয় ঋণ ২০ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ৪৫ দশমিক শূন্য ৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। বহুপক্ষীয় উৎসের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ঋণ ১১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন থেকে ২২ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এ ছাড়া আইএমএফের ঋণ ১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ৬ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

ঋণের স্থিতির দিক থেকে দুটি ধারা বিবেচনায় এনেছে বিশ্বব্যাংক। একটি হলো বহুপক্ষীয় ঋণদাতা সংস্থা (যেমন বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ইত্যাদি), অপরটি হলো দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতা দেশ (যেমন জাপান, চীন, ভারত, রাশিয়া)। বিশ্বব্যাংক বলছে, সরকারি পর্যায়ে বিদেশি অর্থায়নের সবচেয়ে বড় উৎস বহুপক্ষীয় ঋণদাতা সংস্থা। এসব সংস্থার কাছে বাংলাদেশের ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ১১৪ কোটি ডলার। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের কাছে ঋণ ২ হাজার ২৬৩ কোটি ডলার ও এডিবির কাছে ঋণ রয়েছে ১ হাজার ৭৫১ কোটি ডলার।

দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতা দেশগুলোর কাছেও বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঋণ রয়েছে। এসব দেশের কাছে বাংলাদেশের ঋণ ৩ হাজার ২৬৪ কোটি ডলার। এর মধ্যে জাপানের কাছে ১ হাজার ২৭২ কোটি ডলার, রাশিয়ার কাছে ৯০২ কোটি ডলার আছে। এ ছাড়া বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণের পরিমাণ প্রায় এক হাজার কোটি ডলার এবং স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ রয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলার আছে।

কয়েক বছর ধরেই বিদেশি ঋণ পরিশোধ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বিদেশি ঋণের পরিমাণ বাড়লেও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বিবেচনায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখনো তুলনামূলকভাবে সহনীয় বলে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দেশের মোট জাতীয় আয়ের (জিএনআই) তুলনায় বিদেশি ঋণের অনুপাত ২৪ শতাংশ, যা এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ।

অন্যদিকে রপ্তানি আয়ের বিপরীতে ঋণ পরিশোধের অনুপাত ১৬ শতাংশ। যা আগের বছরের চেয়ে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কম। অর্থাৎ রপ্তানি আয় থেকে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে যে অর্থ ব্যয় করতে হয়, তা রপ্তানি আয়ের ১৬ শতাংশ। এই অনুপাত কমে আসাকে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা যায়।

বিভি/এমএফআর

মন্তব্য করুন: