• NEWS PORTAL

মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মানলে ব্যাংকের সম্পদ ৪০ শতাংশ কমে যাবে: এফআরসি চেয়ারম্যান

জিয়াউল হক সবুজ

প্রকাশিত: ১৫:৩০, ২০ মার্চ ২০২৩

আপডেট: ১৯:২৩, ২০ মার্চ ২০২৩

ফন্ট সাইজ
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মানলে ব্যাংকের সম্পদ ৪০ শতাংশ কমে যাবে: এফআরসি চেয়ারম্যান

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্যাংকের হিসাব বিবরণী নিরীক্ষা করা হলে দেশের ব্যাংকগুলোর সম্পদ ৪০ শতাংশ কমে যাবে। আন্তর্জাতিক হিসাব মান বা ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড (আইএফআরএস) মেনে চললে ব্যাংকের দুর্দশার প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠবে বলে জানিয়েছেন ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. হামিদ উল্লাহ ভূঁইয়া। 

সোমবার (২০ মার্চ) সকালে পুঁজিবাজার বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন- ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম আয়োজিত ‘সিএমজেএফ টক’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর পল্টনে সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয়ে এ সংলাপ সঞ্চালনা করেন সিএমজেএফের সাধারণ সম্পাদক আবু আলী। সভাপতিত্ব করেন সিএমজেএফ সভাপতি জিয়াউর রহমান।

অনুষ্ঠানে এফআরসি চেয়ারম্যান জানান, আইএফআরএস তথা আন্তর্জাতিক হিসাব মান অনুসরণ করা হলে ব্যাংকগুলোকে তাদের সম্পদ ৪০ শতাংশ অবলোপন করতে হবে। সহজ করে বললে তাদের সম্পদ কমবে ৪০ শতাংশ। এফআরসি চায়, এটির (আইএফআরএস) বাস্তবায়ন করা হোক, তাহলে ব্যাংকের স্বাস্থ্যের প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক তা মেনে নিচ্ছে না। কিছুটা আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, ‘খেলাপি ঋণ বছরের পর বছর টেনে নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে। এই টাকা কি কখনো পাওয়া যাবে? যদি আদায় করতে সক্ষম হয় তাহলে তো কোনো সমস্যা নেই। আমাদের দেশের সংস্কৃতিতে আমরা যেটা দেখি খেলাপি ঋণ আদায় করা যায় না। বরং দুই শতাংশ জমা দিয়ে এগুলোকে আবার নিয়মিত ঋণে রূপান্তর করা হয়। কিন্তু এই দুই শতাংশ দিয়ে তো ইন্টারেস্টও (সুদ আয়) আসে না। ব্যাংক ইন্টারেস্ট তার থেকে অনেক বেশি। একদিকে ইন্টারেস্ট পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে টাকাও পাচ্ছেন না। কিন্তু রি-সিডিউল করে ঋণ নিয়মিত করায় খেলাপিরা অন্য ব্যাংকে গিয়ে ঋণ নিচ্ছে। এ পদ্ধতির দ্রুত অবসান দরকার। 

এফআরসি চেয়ারম্যান ড. হামিদ উল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, হিসাববিবরণী নিরীক্ষায় স্বচ্ছতা বাড়াতে নিরীক্ষকদের নিবন্ধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দু’মাসের মধ্যে এটি সম্পন্ন হবে। এর পর থেকে এফআরসিতে অনিবন্ধিত কোনো নিরীক্ষক পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বীমা কোম্পানির মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট (PIE) কোনো কোম্পানির নিরীক্ষা করতে পারবে না। এর ব্যত্যয় হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এজন্য প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ দিচ্ছে এফআরসি। প্রশাসনিক জরিমানার বিধানও থাকছে। 

তিনি জানান, তালিকাভুক্ত নিরীক্ষকদের মধ্য থেকে ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি নিরীক্ষার জন্য আলাদা প্যানেল তৈরি করে দেওয়া হবে। কোনো কোম্পানির রাজস্ব ৫০ কোটি টাকা বা তার বেশি হলে, সেই কোম্পানি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোম্পানি হিসেবে বিবেচিত হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জানান, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বড় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩ হাজার ৪০০-এর মতো। এর বাইরে আড়াই হাজার ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠান আছে। এগুলোও এফআরসির আওতায় আসবে। 

হামিদ উল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, জীবন বিমা কোম্পানিগুলো কখনো প্রফিট অ্যান্ড লস অ্যাকাউন্ট করে না। তারা একটা অ্যাকাউন্ট করে, সেটি হলো রেভিনিউ অ্যাকাউন্ট। কিন্তু আইএএস-১ স্পষ্ট বলা আছে, প্রফিট অ্যান্ড লস অ্যাকাউন্ট করতে হবে। আপনার কোম্পানির ধরন যাই হোক না কেনো। কিন্তু তারা সেটা করে না। এমনকি আমরা চিঠি দিলে সাড়াও দেয় না। অন্যান্য রেগুলেটর কিছুটা হলেও রেসপন্স করে। এই একটা সেক্টর, যেটা থেকে আমরা আজ পর্যন্ত কোনো রেসপন্স পায়নি। তিনি বলেন, প্রাইভেট কোম্পানিগুলো ব্যাংক থেকে সহজেই ঋণ পায়। কিন্তু ক্যাপিটাল মার্কেটের হাজারো রেগুলেশনস এবং ডকুমেন্টেশনের কারণে কোম্পানিগুলো সেখান থেকে অর্থ সংগ্রহে আগ্রহী নয়। এ সমস্যাগুলো এখনও আছে। বেসরকারি খাতের বড় কোম্পানিগুলোকে ক্যাপিটাল মার্কেটে আনা না গেলে পুঁজিবাজারের উন্নতি হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

ডক্টর হামিদ উল্লাহ ভুঁইয়া আরও জানান, এফআরসিতে জনবলের ঘাটতি আছে। নতুন জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন আছে। এফআরসিকে পুরোপুরি কার্যকর করতে হলে ২১টি বিধি ও প্রবিধান করতে হবে। এটি হয়ে গেলে তিনি প্রথমেই পুঁজিবাজারের প্রতি মনোযোগ দেবেন বলে জানান। বলেন, ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখানো হিসাববিবরণীকে পুঁজি করে পুঁজিবাজারে অনেক কারসাজি করা হয়ে থাকে। আইপিওতে অনেক দুর্বল কোম্পানি চলে আসে। দেখা যায়, আইপিওতে আসার আগে ৩ বছর টানা মুনাফা বাড়ছে। আইপিওর বাজারে আসার বছরে সবচেয়ে বেশি মুনাফা হচ্ছে। কিন্তু আইপিওতে আসার পর ওই মুনাফা ক্রমাগত কমতে থাকে। তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারে কারসাজি হলে প্রান্তিক বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। এখানে অনেক কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকে, অথচ তাদের কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই। ‌ তিনি তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানির মূল্য সংবেদনশীল তথ্যের বস্তুনিষ্টতা নিয়ে সন্দেহের ইঙ্গিত দেন। কোম্পানিগুলোর মূল্য সংবেদনশীল তথ্যের ভেলিডিটেশন যাচাই করা খুব জরুরি বলে মনে করেন এফআরসি চেয়ারম্যান।

বিভি/রিসি 

মন্তব্য করুন: