• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গবি শিক্ষার্থী সত্যব্রতের উন্নত চিকিৎসায় প্রয়োজন আর্থিক সহায়তা

মো. রাজিউল ইসলাম শান্ত, গণ বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: ০১:০১, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
গবি শিক্ষার্থী সত্যব্রতের উন্নত চিকিৎসায় প্রয়োজন আর্থিক সহায়তা

দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় হারিয়ে চিকিৎসার জন্য লড়ছেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) শিক্ষার্থী সত্যব্রত ঘোষ। সাইনো-ন্যাজাল অঞ্চলে ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার পর এক চোখের দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি হারিয়েছেন তিনি। অপর চোখেও প্রায় ৯০ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে চিকিৎসার বিপুল ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে তার পরিবার।

সত্যব্রত ঘোষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের ভেটেরিনারি অনুষদের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। গত ১৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে তার সাইনো-ন্যাজাল অঞ্চলে ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় জটিলতা। রাজধানীর গ্রিন লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। বর্তমানে নিজ বাসায় রয়েছেন।

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত তার চিকিৎসায় প্রায় ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। একটি চোখে অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং ইতোমধ্যে এক দফা কেমোথেরাপিও দেওয়া হয়েছে। আগামী মাসের ৫ তারিখে আরও একটি কেমোথেরাপি দেওয়ার কথা রয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের ভেলোরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার। এরই মধ্যে ভিসার জন্য আবেদন করা হয়েছে।

সত্যব্রতের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে তার বাবার ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার বাবা ভেটেরিনারি ওষুধের ব্যবসা করেন। ছেলের চিকিৎসার জন্য নিয়মিত হাসপাতালে ছুটতে গিয়ে ব্যবসায় সময় দিতে পারছেন না তিনি। ফলে চিকিৎসার খরচের পাশাপাশি পরিবারের আয়ও কমে গেছে।

সত্যব্রতের মা বলেন, “আমার ছেলের দুই চোখেরই দৃষ্টিশক্তি প্রায় চলে গেছে। আগে একটি চোখে সমস্যা ছিল, পরে অন্য চোখেও সমস্যা দেখা দেয়। বর্তমানে তাকে ধরে ধরে চলাফেরা করতে হয়, খাওয়াতে হয় এবং দৈনন্দিন প্রায় সব কাজেই অন্যের সহায়তা নিতে হচ্ছে। আমরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের ভেলোরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভিসার জন্য আবেদন করা হয়েছে। ভিসা পাওয়া গেলে দ্রুত তাকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। সেখানে চিকিৎসার খরচ কত হবে, এখনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না।”

ছেলের জন্য দোয়া চেয়ে ও চিকিৎসায় সহপাঠীদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, “ডাক্তাররা আপাতত তার ক্যান্সারের চিকিৎসার ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছেন। ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে এলে চোখের দৃষ্টিশক্তি ফেরার সম্ভাবনা আছে কি না, সেটিও তখন বোঝা যাবে। আমার ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা খুব চিন্তিত। সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন, যেন সে সুস্থ হয়ে আবার পড়াশোনায় ফিরতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় বা সহপাঠীরা যদি চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে আমাদের অনেক উপকার হয়; কারণ সামনে তার চিকিৎসায় আরও অনেক অর্থের প্রয়োজন হবে।”

নিজের বর্তমান অবস্থার কথা বলতে গিয়ে সত্যব্রত জানান, “আমার দুই চোখেরই দৃষ্টিশক্তি প্রায় চলে গেছে। একটি চোখে পুরোপুরি দৃষ্টিশক্তি নেই, আরেকটি চোখেও প্রায় ৯০ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছি। বর্তমানে চোখে ঠিকমতো দেখতে পারি না। বাংলাদেশে চিকিৎসার পেছনে ইতোমধ্যে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এখন উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে কী পরিমাণ অর্থ খরচ হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট ধারণা নেই। আমার ব্যাচমেটরা আমার চিকিৎসার জন্য অনুদান সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। তারা বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। গবিসাস থেকেও যদি বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয় এবং এর মাধ্যমে মানুষের কাছে বিষয়টি পৌঁছায়, তাহলে হয়তো চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা পাওয়া সম্ভব হবে।”

সত্যব্রতের সহপাঠীরা জানিয়েছেন, পরিবারের একার পক্ষে তার চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই তারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছেন। একই সঙ্গে সত্যব্রতের চিকিৎসা চালিয়ে নিতে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।

চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতির পাশাপাশি সামনে আরও কেমোথেরাপি ও অন্যান্য চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু এই চিকিৎসার ব্যয় কত হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে দ্রুত সহযোগিতা পাওয়া গেলে সত্যব্রতের উন্নত চিকিৎসার পথ কিছুটা সহজ হবে বলে আশা করছে তার পরিবার ও সহপাঠীরা।

যেভাবে সহযোগিতা করবেন:

সত্যব্রত: ০১৭১৪৪৬১৩১৭ (বিকাশ)

সুপ্রিয় ঘোষ: ১০৮২৩৭৭৭১০০০১ (ব্র্যাক ব্যাংক)

সাদমান: ০১৫৮০৩৪৩৭১৭ (নগদ)

নাহিদ: ০১৩২১৩৪৫১০৫৪ (রকেট)

জুবায়ের: ০১৬৫০২১৮৭৯০ (উপায়)

এছাড়াও আগামী রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে অনুদান সংগ্রহের জন্য সরাসরি যাবে সত্যব্রতের সহপাঠীরা।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: