উপাচার্য ইস্যুতে কর্মবিরতির নেপথ্যে দ্বিমুখী নীতি
চুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখলেও সচল লাভজনক কনসালটেন্সি-বিআরটিসি
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য ইস্যুতে শিক্ষক সমিতি কর্তৃক সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণার পেছনে দ্বিমুখী আচরণের অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনে শিক্ষকদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালনের কথা থাকলেও বাস্তবে এর খেসারত দিতে হচ্ছে কেবল সাধারণ শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষা পুরোপুরি বন্ধ রেখে একাডেমিক জীবন হুমকীর মুখে ফেললেও, শিক্ষকদের আয়বর্ধক টেস্টিং, কনসালটেন্সি ও বিভাগীয় অন্যান্য কার্যক্রম প্রায় স্বাভাবিকভাবেই চলছে। শিক্ষার্থীদের বলির পাঠা বানিয়ে লাভজনক কাজ অব্যাহত।
স্থবির একাডেমিক জীবন
কর্মবিরতির অজুহাতে শিক্ষার্থীদের সব ধরণের ক্লাস ও সেমিস্টার পরীক্ষা বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে দীর্ঘায়িত সেশনজট ও শিক্ষাজীবন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ইতিমধ্যে অন্তত ছয় বিভাগের বিভিন্ন বর্ষ ও সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। ক্লাসও বন্ধ। শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন।
সচল বিআরটিসি (BRTC) ও কনসালটেন্সি
ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের 'ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কন্সালটেন্সি' (BRTC)-এর কাজ একদিনের জন্যও থেমে থাকেনি। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ফিজিক্যাল টেস্টিং ও টেকনিক্যাল কনসালটেন্সির কাজ স্বাভাবিক সময়ের মতোই পরিচালিত হচ্ছে। কারণ িএসব জায়গা থেকে শিক্ষকরা আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন।
আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রে শিথিলতা
যে কাজের সাথে অর্থোপার্জন ও ব্যক্তিগত পেশাগত সুবিধা জড়িত, সেগুলো চালু রেখে কেবল শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ রাখায় শিক্ষক সমাজের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কাগজে-কলমে কর্মবিরতি, বাস্তবে নীরবতা।
বিভাগীয় কার্যক্রমে সক্রিয়তা
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষকরা তাঁদের সুবিধাজনক বিভাগীয় অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
কার্যকারিতাহীন কর্মবিরতি
আন্দোলনের নামে ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হলেও আজ ক্যাম্পাসে কর্মবিরতির বাস্তব কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। দৃশ্যত পুরো আন্দোলনটি কেবল শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা, নৈতিক ভিত্তি হারাচ্ছে আন্দোলন। শিক্ষকদের এই দ্বিমুখী নীতির কারণে উপাচার্য ইস্যুতে চলা শিক্ষক সমিতির আন্দোলনের নৈতিক ভিত্তি এখন চরম প্রশ্নের মুখে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ— নিজেদের আর্থিক লেনদেন ও পেশাগত সুবিধাসংশ্লিষ্ট 'কনসালটেন্সি' কাজ ঠিক রেখে কেবল ছাত্রদের শিক্ষাজীবনকে পণ বন্দি করা কোনো দায়িত্বশীল শিক্ষকের কাজ হতে পারে না। শিক্ষকদের এমন অপেশাদার ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
বিভি/এনএম













মন্তব্য করুন: