• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুয়েটে শাটডাউনের আড়ালে রাজনৈতিক স্বার্থ!

প্রকাশিত: ১৮:৪৩, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
চুয়েটে শাটডাউনের আড়ালে রাজনৈতিক স্বার্থ!

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) টানা 'শাটডাউন' কর্মসূচির নামে এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দৃশ্যত এটি একাডেমিক প্রতিবাদ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ক্যাম্পাসের প্রান্তিক অর্থনৈতিক খাতের ভয়াবহ ক্ষতির চিত্র, রাজনৈতিক ফায়দা লোটার নেপথ্য সমীকরণ।

ধসে পড়েছে প্রান্তিক অর্থনীতি। ক্ষতির মুখে ক্যান্টিন ও পরিবহন চলমান অচলাবস্থার সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ক্যাম্পাসের নিম্ন আয়ের ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকদের ওপর।

বড় লেকাসানে ক্যান্টিন মালিকরা
ক্রেতাহীন ক্যাম্পাসে পচনশীল খাদ্যদ্রব্য নষ্ট হয়ে প্রতিদিন বড় অংকের লোকসান গুনছেন ক্যান্টিন ও ক্যাফেটেরিয়া পরিচালনকারীরা। চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা জানান, শাটডাউনের মেয়াদ বাড়ায় তাদের জীবনজীবিকা অচল হয়ে পড়েছে।

যানবাহন শ্রমিকদের জীবিকায় টান
বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন রুটের বাস, মিনিবাস ও স্থানীয় যানবাহনের চাকা স্তব্ধ। যাত্রী না থাকায় দিন এনে দিন খাওয়া পরিবহন শ্রমিকরা পড়েছেন তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে।

আন্দোলনের নেপথ্যে রাজনৈতিক খেলাধুলার অভিযোগ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র অসন্তোষ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী জানান, এই শাটডাউন প্রকৃতপক্ষে সাধারণ ছাত্রদের অধিকার রক্ষার জন্য নয়। শিবির নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনকে বাজি ধরছে। তারাই আন্দোলনে পেছনে কলকাঠি নাড়ছে।

আওয়ামী-জামায়াতপন্থীদের অভূতপূর্ব 'উস্কানি'
অনুসন্ধানে জানা যায়, চরম আদর্শিক বৈপরীত্য থাকা সত্ত্বেও নিজেদের ব্যক্তিগত সুবিধা ও প্রশাসনিক পদ-পদবি হাসিলের উদ্দেশ্যে আওয়ামীপন্থী ও জামায়াতপন্থী কয়েকজন শিক্ষক একজোট হয়ে এই আন্দোলনকে পেছন থেকে ইন্ধন জোগাচ্ছেন। 

ক্যাম্পাসের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেও অধিকাংশের চোখ এখন নবনিযুক্ত উপাচার্যের ওপর। আন্দোলনের কারণে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা পেছনে ফেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিংহভাগ সাধারণ শিক্ষার্থী, নিরপেক্ষ শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন ভিসিকে নিয়ে উৎসাহ ও স্বস্তি দেখা গেছে। তাদের বিশ্বাস, নতুন ভিসির দক্ষ নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক পদক্ষেপই পারে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর এই কৃত্রিম অচলাবস্থা ভেঙে চুয়েটে দ্রুত স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে।


স্বার্থান্বেষী মহল ও শিক্ষকদের ক্ষুদ্র রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আর কতদিন বন্দি থাকবে—এখন সেই প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে চুয়েট ক্যাম্পাসে। সাধারণের প্রত্যাশা, অবিলম্বে শাটডাউন প্রত্যাহার করে নতুন উপাচার্যের নেতৃত্বে সচল হবে শ্রেণীকক্ষ।

বিভি/এনএম

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত