• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুনিয়া ধ্বংসের মতো যুদ্ধেও প্রস্তুত ইরান! যুক্তরাষ্ট্রকে প্রলয়ংকারী হুঁশিয়ারি আরাগচির

প্রকাশিত: ১৭:৪৫, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৭:৪৬, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
দুনিয়া ধ্বংসের মতো যুদ্ধেও প্রস্তুত ইরান! যুক্তরাষ্ট্রকে প্রলয়ংকারী হুঁশিয়ারি আরাগচির

যদি যুদ্ধই একমাত্র পথ হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমনকি দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মতো প্রলয়ংকারী যুদ্ধ করতেও প্রস্তুত ইরান। একই সময়ে শান্তি স্থাপনের কোনো সুযোগও হাতছাড়া করতে চায় না তারা। ফলে যুদ্ধপ্রস্তুতি আর কূটনীতির দরজা, তেহরান একই সঙ্গে দুই পথ ধরেই এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি যুদ্ধের প্রশ্নে ইরানের এই অনমনীয় অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তার জন্য ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত। যে কোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সবসময়ই অটল অবস্থানে থাকবে তেহরান, তাতে করে সেই সংঘাতের পরিণতি যত ভয়াবহই হোক না কেন।

আরাগচির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কূটনৈতিক অচলাবস্থাও তীব্র হয়েছে। গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে অবস্থানকালে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন করে একটি প্রস্তাব দেয়। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার আশ্বাস দেয় তেহরান। তবে বিনিময়ে ইরান চায় সামরিক চাপ ও অর্থনৈতিক অবরোধ কমানো, জব্দ করা সম্পদ ছাড় ও তেল বিক্রির সুযোগ।

কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এ প্রেক্ষাপটে সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা তখনও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের কাছে পৌঁছায়নি। ফলে আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।

আরাগচি স্পষ্ট করেছেন, যুদ্ধের প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনীতিতেও বিশ্বাসী তেহরান। তার মতে, শান্তির কোনো সুযোগই নষ্ট করা উচিত নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ফেরার ব্যাপারে ইরানের আগ্রহ থাকলেও পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে ওয়াশিংটনের ওপর আস্থা ফেরানো সহজ নয় বলে উল্লেখ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

অন্যদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল ওয়াল্টজ ইরানের নতুন প্রস্তাবটিকে এক কৌশলী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, ইরান এমন কিছু প্রস্তাব টেবিলে তুলেছে, তারা জানতোই যে সেগুলো গ্রহণযোগ্য হবে না। তেহরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র যাওয়া বিশ্বনিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠবে বলে অভিমত তার। তাই ইরান প্রশ্নে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখবে বলে জানিয়েছেন তিনি। 

সার্বিক প্রেক্ষাপটে আরাগচির প্রলয়ংকারি যুদ্ধ প্রস্তুতির বার্তা সাধারণ হুঁশিয়ারি নয়। তারা জানে, যুক্তরাষ্ট্র আবারও হামলা শুরু করতে পারে। এরই মাঝে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আবারও ইরানে বোমা হামলাসহ সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে। তবে এবারে আগের চেয়ে আরো কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি জানাচ্ছে ইরান। 

এ যাত্রায় কোন ভারত মহাসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোতেও হামলার হুমকি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী- আইআরজিসি। সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবোলফজল শেকারচি বলেছেন, এবার কোনো হামলা হলে নতুন সামরিক প্রযুক্তি দিয়ে তার জবাব দেবে তেহরান। শত্রুকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি আরো বলেন, আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আগের চেয়ে উন্নত ও শক্তিশালী হয়েছে। এবার শত্রুর জন্য কিছু চমক অপেক্ষা করছে। 

বিভি/এইচজে

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত