• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইবিতে মীমাংসার পরও সংঘর্ষ, প্রক্টরসহ বেশ কয়েকজন আহত

তালুকদার হাম্মাদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: ১৫:৫৩, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ইবিতে মীমাংসার পরও সংঘর্ষ, প্রক্টরসহ বেশ কয়েকজন আহত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বাসে কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সকালে মীমাংসা হলেও দুপুরে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের সভাপতি, বাংলা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষকসহ উভয় বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আইসিটি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুরুতর আহত হয়েছেন। অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে পাঠানো হয়। পরে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক আটকে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।

জানা যায়, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কুষ্টিয়াগামী গোধূলী বাসে উচ্চস্বরে গল্প করাকে কেন্দ্র করে বাংলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হৃদয় ও আইসিটি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। কুষ্টিয়ার জেলখানা মোড় এলাকায় বাস থেকে নামার পর এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ক্যাম্পাস থেকে কুষ্টিয়াগামী বাসে আবু সাঈদসহ তার কয়েকজন সহপাঠী উচ্চস্বরে গল্প করছিলেন। এ নিয়ে জেলখানা মোড় এলাকায় আবু সাঈদ ও বাংলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বাপ্পির মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী হৃদয় বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে এগিয়ে এলে তার সঙ্গে আবু সাঈদের হাতাহাতি হয়। এতে হৃদয়ের নাক দিয়ে রক্ত বের হয় এবং আবু সাঈদের হাত কাঁচে লেগে কেটে যায় বলে উভয়পক্ষ দাবি করেছে।

ঘটনার পর বুধবার সকালে প্রক্টর অফিসে দুই বিভাগের শিক্ষার্থী, উভয় বিভাগের সভাপতি ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে মীমাংসা করা হয় এবং তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্তগুলো হলো—উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীরা একে অপরকে নিঃশর্তভাবে ক্ষমা করবেন, পরবর্তী সময়ে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হলে এর দায়ভার সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নিতে হবে এবং উভয় বিভাগের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং করবেন।

তবে দুপুরে মীমাংসার পর প্রক্টর অফিস থেকে নিচে নামার সময় দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় সংঘর্ষে প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর, আইসিটি বিভাগের সভাপতি ও বাংলা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক আহত হন। সংঘর্ষে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুরুতর আহত হলে তাকে চিকিৎসার জন্য মেডিকেলে পাঠানো হয়।

সংঘর্ষের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক আটকে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। তাদের দাবি, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। জড়িতদের স্থায়ী বহিষ্কার না করা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।

এদিকে, ঘটনার পর বাংলা বিভাগের সভাপতি বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে জরুরি সভায় বসেছেন বলে জানা গেছে। সভায় ঘটনার পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘আমি উপাচার্য স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। জরুরি ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে জানালে জরুরিভাবে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত