২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ চুয়েটের নতুন ভিসি, পদত্যাগের দাবিতে অনড় শিক্ষার্থীরা
চুয়েটের নতুন ভিসি অধ্যাপক ড.শরীফুল আলম
প্রায় একদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো চুয়েটের প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ নতুন ভিসি অধ্যাপক ড.শরীফুল আলম। ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত চুয়েটের প্রশাসনিক ভবনের তালা খোলা হবেনা বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা। এর প্রেক্ষিতে কোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে চুয়েট উপাচার্যকে তার দায় নিতে বলেও হুঁশিয়ার করেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে বিদ্যুত বিহীন ভবনে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকায় ভিসির সাথে থাকা কয়েকজন রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে শিক্ষার্থীরা চিকিৎসক এনে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ভিসিসহ ওই ভবনে আটকে থাকাদের খাবার-পানিও দেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ১২টা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেওয়ার পরও চুয়েট উপাচার্য ক্যাম্পাস ত্যাগ না করায় প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেয় চট্টগ্রাম প্রকেৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। বিচ্ছিন্ন করে দেয় ওই ভবনের বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ। এরপর দুপুরে জরুরি সভার পর বহিরাগতদের সহায়তায় ক্যাম্পাসে নতুন ভিসির এমন উপস্থিতিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় চুয়েট শিক্ষক সমিতি ও চুয়েট কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতি। চুয়েট ভিসিকে অবরুদ্ধ করার পর চট্টগ্রাম নগরী থেকে চুয়েট ক্যাম্পাসগামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস অবরুদ্ধ করে হাটহাজারী এলাকায় স্থানীয় ছাত্রদল কর্তৃক চুয়েটের শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগও করেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা।
এর আগে সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকাল আটটার পর ছাত্রদল নেতাদের সাথে নিয়ে নিজ দফতরে প্রবেশ করেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। এরপর সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভিসির দফতর ছেড়ে যাবার আল্টিমেটাম দেয় শিক্ষার্থীরা।
গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস–চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে পরদিন থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করে আসছেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের এই দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও একই দাবিতে ওই দিন থেকে কর্মবিরতি পালন করে আসছেন। যার ফলে গত ২১ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। হয়নি কোনও ক্লাস ও পরীক্ষা।
বিভি/এসজি













মন্তব্য করুন: