পাশ করতে পারেনি বরিশালের ৩১ হাজার পরীক্ষার্থী, ১১টি কলেজের সবাই ফেল!
ছবি: সংগৃহীত
বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে পাশের হার ও জিপিএ ফাইভ উভয় ক্ষেত্রে ফলাফল বিপর্যয় হওয়ায় কলেজ ক্যাম্পাস ছিল পরীক্ষার্থী শূন্য। নগরীর প্রতিটি কলেজ ক্যাম্পাসের একই অবস্থা। এ বছর পাশের চেয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশী। এদিকে শতভাগ পাশ করেছে বরিশাল ক্যাডেট কলেজের শিক্ষার্থীরা।
এ বছর পাশের হার ৪৪ দশমিক ৮৪। জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ৯শ’৫০জন। বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ফাইভে ছেলেরা, এছাড়া পাশের হারে এবং মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষায় জিপিএ ফাইভে এগিয়ে মেয়েরা। বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের অধীন বিভাগের ছয়টি জেলার ৩৫০টি কলেজ থেকে ৫৭ হাজার ৯১২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ২৫ হাজার ৯৭০জন, অকৃতকার্য ৩১ হাজার ৯১২ জন।
বিজ্ঞান বিভাগ ১১ হাজার ৯৩৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ৬ হাজার ৭৭৫ জন। এর মধ্যে মেয়ে হচ্ছে ৩ হাজার ৯৮৩ জন এবং ছেলে ২ হাজার ৭৯২ জন। জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ৪৩৫ জন। এর মধ্যে ছেলে ২২৮ জন এবং মেয়ে ২০৭ জন।
মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৪০ হাজার ১৭৪ জন। পাশ করেছে ১৬ হাজার ৯৮৩জন। এর মধ্যে মেয়ে ১১ হাজার ৩৭১ জন এবং ছেলে ৫ হাজার ৬১২ জন। ৪৮১টি জিপিএ ফাইভের মধ্যে মেয়েরা পেয়েছে ৩৬৫টি এবং ছেলে ৯৬টি। ব্যবসা শিক্ষায় ৫ হাজার ৪৯১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ২ হাজার ২১২ জন। এর মধ্যে মেয়ে ১ হাজার ১৫১ জন এবং ছেলে ১ হাজার ৬১ জন। ৫৪টি জিপিএ ফাইভের মধ্যে মেয়েরা ৩৫টি এবং ১৯টি ছেলেরা।
শিক্ষাবোর্ডের অধীন জেলাভিত্তিক ফলাফলে এগিয়ে পিরোজপুর জেলা। ওই জেলার ৪৭টি কলেজ থেকে ৬ হাজার ৭৮২ জন অংশগ্রহন করে পাশ করেছে ৩ হাজার ৪৯৬জন। জিপিএ ফাইভ পেয়েছে মেয়ে ৪৫টি এবং ছেলে ২১টি। বরিশাল জেলার ১০৭টি কলেজ থেকে ২০ হাজার ৯২৯ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে পাশ করেছে ১০ হাজার ৪৫৩ জন। ৩৬৮টি জিপিএ ফাইভ পেয়েছে মেয়েরা এবং ছেলেরা পেয়েছে ২৫৪টি। বরগুনায় জেলার ৩৬টি কলেজ থেকে ৫ হাজার ৭৭৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ২ হাজার ৫৭৯ জন। ৫১টি জিপিএ ফাইভ পেয়েছে মেয়েরা এবং ১৮টি পেয়েছে ছেলেরা।
ভোলা জেলার ৫৯টি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রন করে ৯ হাজার ৫৩৯ জন। পাশ করেছে ৩ হাজার ৭৭২ জন। জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ৬০ জন মেয়ে এবং ছেলেরা পেয়েছে ১৯টি। পটুয়াখালী জেলার ৭০টি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১০ হাজার ৪৩০ জন। পাশ করেছে ৪ হাজার ১৭ জন। জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ৫১ জন মেয়ে এবং ছেলেরা পেয়েছে ২৫টি। ঝালকাঠী জেলার ৩১টি কলেজ থেকে ৪ হাজার ৪৫৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ১ হাজার ৬৫৩ জন। ৩২টি জিপিএ ফাইভ পেয়েছে মেয়েরা এবং ছেলেরা ৬টি।
এ বছর বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের অধীন ১১টি কলেজ থেকে ৩৭ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে একজনও পাশ করতে পারেনি। বরগুনা কদভানু মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এবং কলেজ থেকে ২ জন অংশ নেয়। ভোলার চরফ্যাশনের চরমানিকা জালাল আহমেদ কলেজ থেকে ৩ জন, ভোলার লালমোহনের রামাগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ৪ জন, ভোলা সদরের মিদুয়া কলেজ থেকে ৫ জন, পটুয়াখালীর গলাচিপার বিপিসি স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২ জন,ন পটুয়াখালীর মীর্জাগঞ্জের মজিদবাড়িয়া কলেজ থেকে ১ জন, পটুয়াখালী সদরের আউলিয়াপুর সাবিনা আক্তার স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ১ জন, পিরোজপুরের নাজিরপুরে দীঘহিরজান স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ৫ জন, পিরোজপুরের কদমতলা স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২ জন, ঝালকাঠীর নলছিটির এড্যা. এইচআরকে ফাউন্ডেশন কৃষি প্রযুক্তি কলেজ থেকে ৯ জন, বরগুনার পাথারঘাটার হোগলাপাশা কলেজ থেকে ৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউ পাশ করেনি।
অপরদিকে বরিশাল ক্যাডেট কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ৪১ জন এবং মানবিক বিভাগ থেকে ৫ জন অংশ নিয়ে সকলে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে। এ ফলাফলের জন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ এটিএম মোয়াজ্জেম হোসেন।
বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে ২০২৫ সালে পাশের হার ছিল ৬২ দশমিক ৫৭ ভাগ। জিপিএ ফাইভ ছিল ১ হাজার ৬৭৫টি।
বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর শরীফ মোর্শেদ রেজা বলেন, ফলাফল বিপর্যয়ের মূল কারন হচ্ছে মানসম্মত ক্লাস রুম শিক্ষা না থাকা, একই সাথে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবকে দায়ী করেন। একই সাথে লেখাপড়া ভালোভাবে আশ্বস্ত করার পাশাপাশি অভিভাবককে কোনভাবে শিক্ষার বিষয়ে ছাড় না দেয়ার আহ্বান জানান। শ্রেনীকক্ষে পাঠদান থেকে শুরু করে ঘরে পড়ার টেবিলে শিক্ষতে হবে এরপর পরীক্ষায় বসতে হবে। তানা হলে ফলাফল এভাবে বিপর্যয় ঘটবে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, এ ধরনের ফলাফল অনেক ভালোদিক রয়েছে। বিগত দিনগুলোর মত আমরা জিপিএ ফাইভে গা ভাসাবো না।
এ ফলাফল মেনে নিয়ে, আগামী দিনগুলোতে যাতে ভালো ফলাফল করা যায় সেদিকে শিক্ষার্থীদের আগাতে বলেন। সবচেয়ে বেশী খারাপ হয়েছে ইংরেজীতে। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশীরভাগ শিক্ষার্থী ইংরেজী বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে বলে জানান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। এটা অভারকাম করা গেলে পরীক্ষার ফলাফল আরো ভালো হতো।
বিভি/এজেড













মন্তব্য করুন: