ফ্রান্সের পৌর নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৫ কাউন্সিলরের ইতিহাস
ফ্রান্সের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন এক মাইলফলক স্থাপন করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পাঁচ প্রবাসী। সাম্প্রতিক পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে তারা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য অর্জন করেননি, বরং ফ্রান্সে বসবাসরত পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গর্বের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
নির্বাচনে বিজয়ী পাঁচ জনপ্রতিনিধি হলেন- কৌশিক রাব্বানী (দ্বিতীয়বার), জুবায়েদ আহমেদ, নাহিদুল ইসলাম, ফাহিম মোহাম্মদ এবং তানিয়া তনু। তারা যথাক্রমে স্তাঁ, ইভরি-সুর-সেইন, সেইন্ট-ডেনিস, ক্রিতেই এবং গার্জ-লে-গোনেস পৌরসভার কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
জানা গেছে, নির্বাচিত প্রত্যেকেই দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ এলাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ড, জনসেবা এবং কমিউনিটির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং ধারাবাহিক কাজের কারণেই তারা ফরাসি ভোটারদের আস্থা ও সমর্থন অর্জনে সক্ষম হয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিজয় ফ্রান্সের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন। বিশেষ করে কৌশিক রাব্বানী দ্বিতীয়বারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়াকে ধারাবাহিক নেতৃত্ব ও জনআস্থার প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কমিউনিটির নেতারা বলছেন, এই সাফল্য প্রমাণ করে কঠোর পরিশ্রম, সততা এবং দৃঢ় সংকল্প থাকলে প্রবাসেও নিজের অবস্থান তৈরি করা সম্ভব। স্থানীয় সমাজে সক্রিয় ভূমিকা রাখার মাধ্যমে এই নেতারা শুধু বাংলাদেশিদেরই নয়, ফরাসি নাগরিকদের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন।
তবে ফ্রান্সের পৌর নির্বাচনের পদ্ধতি বাংলাদেশের মতো সরাসরি ব্যক্তি-ভিত্তিক নয়। এখানে ভোটাররা পৃথকভাবে কোনো একক প্রার্থীকে ভোট দেন না। বরং মেয়র প্রার্থীর নেতৃত্বে গঠিত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা বা প্যানেলের পক্ষে ভোট দেওয়া হয়। ভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে তালিকার প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে পৌর পরিষদের আসন বণ্টন করা হয়।
এরপর নির্বাচিত কাউন্সিলররা নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে মেয়র হিসেবে নির্বাচন করেন। ফলে কাউন্সিলররা ব্যক্তিগত ভোটে নয়, বরং দলীয় বা প্যানেলভিত্তিক নির্বাচনী ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচিত হন।
ফ্রান্সে বাংলাদেশি কমিউনিটি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, ব্যবসা, সংস্কৃতি এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। সাম্প্রতিক এই নির্বাচনী সাফল্য সেই ধারাবাহিকতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
কমিউনিটির অনেকের মতে, এই অর্জন ভবিষ্যতে আরও বেশি বাংলাদেশি তরুণকে স্থানীয় রাজনীতি ও নেতৃত্বের পথে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে। প্রবাসে থেকেও যে সমাজের মূলধারায় ইতিবাচক অবদান রাখা সম্ভব, এই বিজয় তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
বিভি/এজেড



মন্তব্য করুন: