কামরুল ইসলাম সাঈদের ইসলামী আন্দোলনে যোগ দেওয়ার দাবি মিথ্যা
সম্প্রতি, মাদারীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং আলোচিত ইসলামিক বক্তা কামরুল ইসলাম সাঈদ জামায়াত ছেড়ে ইসলামী আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন দাবিতে একটি তথ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। একই দাবিতে আমার দেশের একটি ফটোকার্ডও প্রচার হতে দেখা যায় যা ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, কামরুল ইসলাম সাঈদ জামায়াতের রাজনীতি ছেড়ে ইসলামী আন্দোলনে যোগদানের দাবিটি সঠিক নয় এবং আমার দেশও এ সংক্রান্ত কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, কামরুল ইসলাম সাঈদ মাদারীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন এবং আলোচিত দাবিটি মিথ্যা বলে তিনি নিজে রিউমর স্ক্যানারকে নিশ্চিত করেছেন।
অনুসন্ধানের শুরুতে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে আলোচিত দাবির পক্ষে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এটিতে কামরুল ইসলাম সাঈদের ছবি ও আমার দেশের লোগো রয়েছে। এছাড়া, এটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে।
উক্ত সূত্র ধরে অনুসন্ধানে, গত ১৮ জানুয়ারি আমার দেশের ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি, আমার দেশের ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল এবং কামরুল ইসলাম সাঈদ ফেসবুক পেজ আলোচিত দাবির স্বপক্ষে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পাশাপাশি, আমার দেশ কর্তৃক প্রকাশিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ফন্টের সাথে আলোচত ফটোকার্ডে থাকা ফন্টের মধ্যেও পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।
অর্থাৎ, আমার দেশ এমন কোনো ফটোকার্ড কিংবা সংবাদ প্রকাশ করেনি।
এরপর, বিষয়টি অধিকতর যাচাইয়ের জন্য কামরুল ইসলাম সাঈদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি রিউমর স্ক্যানারকে বলেন, ‘আমি পারিবারিকভাবে জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত। তবে, আমি কোনো পদপদবীতে নেই। আর ইসলামী আন্দোলনের সাথে যোগ দেওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট এবং গণমাধ্যমের তথ্যমতে, কামরুল ইসলাম সাঈদ মাদারীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন নিয়েছেন। উক্ত আসনে জামায়াতে ইসলামী থেকে কোনো প্রার্থী মনোনয়না না নিলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হয়ে মনোনয়ন নিয়েছেন আলী আহমাদ চৌধুরী।
সুতরাং, ইসলামিক বক্তা কামরুল ইসলাম সাঈদ জামায়াত ছেড়ে ইসলামী আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন শীর্ষক দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
বিভি/পিএইচ



মন্তব্য করুন: