জুমার দিন কেন মুসলমানদের কাছে এত বিশেষ?
ছবি: সংগৃহীত
সপ্তাহের ৭ দিনের মধ্যে শুক্রবার মুসলমানদের কাছে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। এ দিনকে বলা হয় ‘জুমার দিন’। শুধু সাপ্তাহিক জামাতে নামাজ আদায়ের জন্যই নয়; ইসলামে এ দিনের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব ও ফজিলত। কিন্তু, কেন জুমার দিন মুসলমানদের জন্য এতো গুরুত্বপূর্ণ? এ দিনের বিশেষত্বই বা কী?
জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা:
ইসলামে জুমার দিনের গুরুত্ব বোঝা যায় পবিত্র কোরআনের একটি স্বতন্ত্র সূরা থেকেই। কোরআনের ৬২তম সূরার নাম ‘আল-জুমুআহ’। এই সূরার ৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।’
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, জুমার নামাজ মুসলমানদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। জুমার আজান হলে দুনিয়াবি ব্যস্ততা ছেড়ে আল্লাহর স্মরণ ও নামাজের দিকে মনোযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন শুক্রবার:
জুমার দিনের মর্যাদা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে দিনগুলোতে সূর্য উদিত হয়, সেগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন।’(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৪) এ হাদিসে শুক্রবারের বিশেষ মর্যাদা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাই, এই দিনকে একজন মুসলমানের কাছে ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের বিশেষ সুযোগ হিসেবে দেখা হয়।
এই দিনেই সংঘটিত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা:
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, শুক্রবার এমন একটি দিন, যেদিন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং সেখান থেকে বের করা হয়েছে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৪) হাদিসে আরও এসেছে, কিয়ামতও শুক্রবারেই সংঘটিত হবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৪) এসব ঘটনা জুমার দিনের বিশেষত্বকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
জুমার দিনে রয়েছে দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত:
জুমার দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, এই দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলমান আল্লাহর কাছে দোয়া করলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই সময়ের কথা উল্লেখ করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৩৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫২)
তবে সেই সময়টি ঠিক কখন, তা নির্ধারণের বিষয়ে আলেমদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে। অনেক আলেম আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের আগের সময়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ খুতবা ও জুমার নামাজের সময়কে প্রাধান্য দিয়েছেন। তাই, এই দিনে বেশি বেশি দোয়া, জিকির ও ইবাদতে মনোযোগী হওয়া উচিত।
জুমার দিনে যেসব আমল করবেন:
জুমার দিনের মর্যাদা কাজে লাগাতে কয়েকটি আমলের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া যায়।
১. জুমার নামাজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া ও যথাসময়ে মসজিদে উপস্থিত থাকা।
২. গোসল করা, পরিষ্কার পোশাক পরিধান এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা।
৩. বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা।
৪. সূরা কাহফ পাঠ করা। এ বিষয়ে ফজিলতের বর্ণনা রয়েছে; তবে বর্ণনাগুলোর সনদ নিয়ে আলেমদের মধ্যে আলোচনা আছে।
৫. দোয়া, জিকির ও ইস্তিগফারে সময় দেওয়া।
৬. খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং অপ্রয়োজনীয় কথা থেকে বিরত থাকা।
কেন বিশেষ এই দিন?
জুমার দিন শুধু একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন নয়; বরং এটি মুসলমানদের একত্র হওয়ার, আল্লাহর স্মরণে মনোযোগী হওয়ার এবং নিজেদের জীবনকে পর্যালোচনা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। এই দিনের ইবাদত ও আমলের মাধ্যমে একজন মুসলমান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করেন। তাই, জুমার দিনকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া, ফরজ ইবাদত পালনে যত্নবান হওয়া এবং দিনটিকে নেক আমলে সমৃদ্ধ করাই একজন মুসলমানের দায়িত্ব।
বিভি/এনএইচ













মন্তব্য করুন: