• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪

চরম পানির সংকটে পড়বে ভবিষ্যৎ পৃথিবী

লায়লা ফেরদৌসি

প্রকাশিত: ১৭:০১, ২ এপ্রিল ২০২৪

আপডেট: ১৯:০৩, ২ এপ্রিল ২০২৪

ফন্ট সাইজ
চরম পানির সংকটে পড়বে ভবিষ্যৎ পৃথিবী

যতপ্রকার অপচয় দুনিয়াতে আছে তারমধ্যে আমাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয় পানির অপচয়। কোথাও পানির ট্যাংকি উপচে পানি পড়ে অপচয় হচ্ছে এই দৃশ্য আমাকে ভীষণভাবে কষ্ট দেয়। যেকোন স্থানে পানির ট্যাপ দিয়ে ঝিরিঝিরি পানি পড়ছে দেখলে সেটা ঠিক না করা পর্যন্ত আমি শান্তি পাইনা। পৃথিবীর চারভাগের তিনভাগ পানি হলেও এই পানির সাতানব্বই ভাগই লবনাক্ত। আর যে পানি আমরা খাই বা ব্যবহার করি তা  হলো স্বাদুপানি যা পৃথিবীর মোট পানির মাত্র তিনভাগ। আর এই স্বাদুপানি আমরা মানুষেরা ইতোমধ্যে এত পরিমান অপচয় করে ফেলেছি যে ভবিষ্যৎ দুনিয়া যে ভয়ংকর পানির ক্রাইসিস ফেইস করবে তা মোটামুটি নিশ্চিত।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে খাবার অপচয় নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য দিলো জাতিসংঘ   
যাহোক, ব্যক্তিগত জীবনে পানির অপচয় রোধে আমি কিছু কাজ করি। বিশ্ব পানি দিবসে সেগুলো সবার সাথে শেয়ার করতে ইচ্ছে হলো। কাজগুলো হলো,
১। ব্রাশ করা বা মুখ ধোয়ার সময় মুখ হাত পরিষ্কারের সময় পানির ট্যাপ বন্ধ রাখা। অনেকে মুখে সাবান দেওয়ার সময় বা ব্রাশ করার সময় ট্যাপ ছেড়ে রেখে যে পরিমান পানি নষ্ট করে তার চারভাগের একভাগ পানিও সে ব্যবহার করে না।
২। ওজুর সময় ট্যাপ ছেড়ে ওজু না করে মগে পানি নিয়ে ওজু করা। এতে পানি অনেক কম খরচ হয়। উল্লেখ্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি ইউজ করলে,অর্থাৎ ওজুর সময় পানির অপচয় করার ব্যাপারে ধর্মীয় নিষেধ রয়েছে।
৩। কাপড় কাচার সময় ট্যাপ না ছেড়ে রাখা।
৪। কাপড় ধোয়া পানি ফেলে না দিয়ে টয়লেট ব্যবহারের পর ইউজ করা
৫। খাবার পানি গ্লাসে ততটুকুই ঢালা যতটুকু পানি খাওয়া হবে। বোতলে পানি খেলে বোতলের সবটুকু পানি খেয়ে ফেলা। সবটুকু না খেতে পারলে বোতলটা সাথে রাখা যতক্ষণ না পানিটা শেষ হয়।
৭। বাড়িতে মোটরে পানি তোলার সময় ট্যাংক ভর্তির সাথে সাথে মোটর বন্ধ করা।
৮। বোতলের খাবার পানি পুরাতন হলে ফেলে না দিয়ে রান্নায় ব্যবহার করা।

আরও পড়ুন:  বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস দিলো বিশ্বব্যাংক
৯। বাসন মাজার সময় প্রয়োজনের অতিরিক্ত গতিতে ট্যাপের পানি না ছাড়া
১০। চাল-ডাল, শাক-সবজি ধোয়া পানি ফেলে না দিয়ে টবের গাছে দিয়ে দেয়া। এটা করলে গাছের জন্য আর এক্সট্রা পানি লাগছেনা সেইসাথে প্লাস পয়েন্ট হচ্ছে এই পানি গাছের জন্য উপকারী।
এক কথায় পানির ব্যবহার হয় এমন প্রতিটি ক্ষেত্রে চিন্তা করা যেন আমার দ্বারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানির ব্যবহার না হয়।
আমরা অনেকেই ভুলে যাই যে পৃথিবীর যেকোন প্রকার সম্পদ, যেকোন মূল্যবান ধাতুর চেয়ে,হীরা,মনি-মুক্তা,জহরতের চেয়ে স্বাদু পানি অনেক বেশি মূল্যবান কেননা সোনা-দানা,হীরা-জহরত ছাড়া আমরা দিব্যি বেঁচে থাকতে পারবো কিন্তু পানযোগ্য পানি ছাড়া আমাদের পক্ষে বেঁচে থাকা কোনভাবেই সম্ভব নয়।
তাই আসুন পানির অপচয় রোধে আমরা প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হই। নিজে সচেতন হই ও অন্যকেও সচেতন করার চেষ্টা করি।

লেখক : প্রভাষক, গ্রীন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

মন্তব্য করুন: