স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সেবা চালু করলো বাংলালিংক
স্টারলিংকের সঙ্গে অংশীদারত্বে বাংলাদেশে স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সেবা চালু করেছে বাংলালিংক। দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে এ সেবা চালু হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে থাকা এলাকাতেও বাংলালিংকের গ্রাহকেরা যোগাযোগের সুবিধা পাবেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলালিংক জানায়, নতুন এ সেবা চালুর মাধ্যমে আরও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে থাকা এলাকাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আরও এক ধাপ এগিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
জরুরি পরিস্থিতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে প্রচলিত নেটওয়ার্ক সেবা বিঘ্নিত হলেও স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সেবার মাধ্যমে যোগাযোগ রাখা যাবে। বিশেষ করে জেলে, সাগরে কাজ করা মানুষ, দুর্গম ও উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা এবং পর্যটকদের জন্য এ সেবা কাজে আসবে।
বাংলাদেশের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের (ইইজেড) আওতাধীন গভীর সমুদ্র এলাকাতেও এ সেবার মাধ্যমে সংযোগ পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে বাংলালিংক। নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে থাকা এলাকাতেও স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সেবার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কিছু অ্যাপ ও লোকেশন সেবা ব্যবহারের সুবিধা থাকবে।
বাংলালিংকের সংযোগ ও ফোর-জি-সক্ষম ফোন থাকলেই এ সেবা ব্যবহার করা যাবে। চালুর প্রথম মাসে যেকোনো বাংলালিংক ইন্টারনেট বা মিক্সড বান্ডল প্যাক কিনলেই বাড়তি খরচ ছাড়াই স্টারলিংক ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা পাবেন গ্রাহকেরা।
দ্বিতীয় মাস থেকে নির্ধারিত কিছু মাসিক ইন্টারনেট ও মিক্সড বান্ডল প্যাকের সঙ্গেও কোনো বাড়তি খরচ ছাড়াই এ সুবিধা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতি মাসে বিনা মূল্যে পাঁচটি এসএমএস পাঠাতে পারবেন গ্রাহকেরা।
বাংলাদেশে স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সেবা চালুর বিষয়ে বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইওহান বুসে বলেন, ‘কানেক্টিভিটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মানুষ। পরিবারের কেউ যেন দূরে থাকা স্বজনের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, একজন জেলে যেন বাড়িতে বার্তা পাঠাতে পারেন কিংবা দুর্গম এলাকায় থাকা কেউ প্রয়োজনের সময় কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি বলেন, স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশের আরও বেশি মানুষের কাছে এবং আরও বেশি এলাকায় সংযোগ পৌঁছে দিতে চান তারা। দূরত্ব যেন যোগাযোগের পথে বাধা না হয়। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বাস্তব সুবিধা তৈরি করাই ডিজিটাল অপারেটর হিসেবে তাদের লক্ষ্য।
স্টারলিংকের স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সেবার মাধ্যমে প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতার বাইরের এলাকাতেও বাংলালিংকের গ্রাহকেরা প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করতে পারবেন। ফলে গ্রাহকের অবস্থানের ওপর মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়ার বিষয়টি আর পুরোপুরি নির্ভর করবে না। আকাশ দেখা গেলেই বাংলালিংকের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিভি/টিটি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: