• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

চাকরি হারাবে না এইচআর, এআই বদলে দেবে কাজের ধরন; কিন্তু কীভাবে?

প্রকাশিত: ১১:১৭, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১১:১৯, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
চাকরি হারাবে না এইচআর, এআই বদলে দেবে কাজের ধরন; কিন্তু কীভাবে?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে আলোচনা। মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বা এইচআর বিভাগেও এর প্রভাব পড়তে যাচ্ছে। তবে এআই এইচআরকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করবে না; বরং বদলে দেবে বিভাগের কাজের ধরন, জনবল ও দায়িত্ব। প্রশাসনিক কাজের বড় অংশ স্বয়ংক্রিয় হয়ে যাওয়ায় এইচআর বিভাগে কর্মীর সংখ্যা কমতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কৌশল নির্ধারণ, নেতৃত্বের বিকাশ, কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সাংগঠনিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ বিভাগের গুরুত্ব আরও বাড়বে।

এআইয়ের সহায়তায় কর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, ছুটি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার আবেদন প্রক্রিয়াকরণ, নথি হালনাগাদ এবং প্রতিবেদন তৈরির মতো নিয়মিত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এতে এইচআর কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক কাজে সময় কম ব্যয় করতে হবে। ফলে তারা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং কার্যকর কর্মপরিবেশ তৈরিতে বেশি মনোযোগ দিতে পারবেন।

তবে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও মানবিক বিচার, সহমর্মিতা ও নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা কমবে না। বরং জটিল কর্মী-সম্পর্কিত সমস্যা সমাধান, সাংগঠনিক পরিবর্তন পরিচালনা এবং ব্যবসায়িক লক্ষ্য অর্জনে দক্ষ এইচআর পেশাজীবীদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এআই কর্মীদের ছুটি, মাতৃত্বকালীন ছুটি কিংবা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন নীতিমালা সম্পর্কে তথ্য দিতে পারবে। একই সঙ্গে ব্যবস্থাপকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া এবং কোন বিষয়ে মানুষের হস্তক্ষেপ জরুরি, তা শনাক্ত করতেও সহায়তা করবে।

তবে সব সিদ্ধান্ত এআইয়ের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে না। কোনো পরিস্থিতিতে মানবিক বিবেচনা, সহমর্মিতা, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের প্রয়োজন, তা বোঝার গুরুত্ব থেকেই যাবে। প্রযুক্তি নিয়মিত প্রক্রিয়া সামলাবে, আর গুরুত্বপূর্ণ মানবিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন মানুষ।

এইচআরের প্রচলিত দায়িত্বের সীমানাও বদলাতে পারে। যেমন, বেতন পরিশোধের কাজ কেন এইচআর বিভাগের অধীনেই থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বেতন ব্যবস্থাপনা মূলত আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এতে হিসাবের নির্ভুলতা, আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ও নিয়ম মেনে অর্থ পরিশোধের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ—যা অর্থ বিভাগের কাজের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

অন্যদিকে কর্মীদের মোট পারিশ্রমিক, বেতন কাঠামো, প্রণোদনা, সুযোগ-সুবিধা ও স্বীকৃতির নীতি নির্ধারণে এইচআরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। এসব বিষয় কর্মীদের আচরণ ও কর্মদক্ষতাকে প্রভাবিত করে।

প্রতিষ্ঠানের কৌশল নির্ধারণ করাই যথেষ্ট নয়; সেই কৌশল বাস্তবায়নের উপযোগী সাংগঠনিক কাঠামোও তৈরি করতে হয়। কোন কাজে কী ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কার হাতে থাকবে, দল কীভাবে গঠিত হবে এবং নেতৃত্বের কাছ থেকে কী ধরনের আচরণ প্রত্যাশা করা হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে এইচআরকে।

এআই প্রতিষ্ঠানের কর্মদক্ষতা বিশ্লেষণ, দক্ষতার ঘাটতি শনাক্ত এবং জনবলের প্রবণতা বুঝতে সাহায্য করবে। তবে কোনো ব্যবস্থাপনা স্তর কমালে প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা বাড়বে কি না, তা শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। কর্মীদের পারস্পরিক আস্থা, সম্পর্ক, প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস ও অনানুষ্ঠানিক নেতৃত্বও গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ, প্রতিষ্ঠান শুধু একটি কাঠামো নয়; এটি মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আচরণের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি ব্যবস্থা। তাই সফল সাংগঠনিক পরিবর্তনের জন্য মানবিক বিচার অপরিহার্য।

কর্মীদের অভিযোগ, নীতিমালা ব্যাখ্যা ও নিয়মিত সমস্যা সমাধানের মতো কাজে এআই ব্যবস্থাপকদের সহায়তা করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট নীতিমালা খুঁজে দেওয়া, আগের ঘটনার নজির শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পূর্ণ রাখার কাজও সহজ হবে। তবে জটিল কর্মী-সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত, প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি ও নেতৃত্বের বিচক্ষণতা প্রয়োজন হবে। ফলে নিয়মিত কাজের জন্য কম কর্মী লাগলেও জটিল সমস্যা মোকাবিলায় দক্ষ বিশেষজ্ঞের চাহিদা বাড়তে পারে।

একইভাবে, প্রতিভা ব্যবস্থাপনাও বদলে যাবে। শুধু কোনো পদে পরবর্তী উত্তরসূরি কে হবেন, তা নির্ধারণের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানকে ভাবতে হবে—ভবিষ্যতে কী ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন হবে, সেই দক্ষতা বর্তমানে কোথায় রয়েছে এবং তা কীভাবে তৈরি, নিয়োগ, ধার করা বা প্রযুক্তির মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব।

ভবিষ্যতের এইচআর বিভাগে কর্মীর সংখ্যা কমতে পারে, বিশেষ করে প্রশাসনিক পদে। তবে যারা থাকবেন, তাদের সাংগঠনিক কাঠামো, ব্যবসায়িক মডেল, প্রযুক্তি, কর্মীদের আচরণ, জনবল বিশ্লেষণ, পারিশ্রমিক ও পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে গভীর ধারণা থাকতে হবে।

যাঁদের মূল্য মূলত নিয়মিত প্রক্রিয়া পরিচালনার ওপর নির্ভরশীল, তাদের কাজ এআইয়ের মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। অন্যদিকে যাঁরা প্রতিষ্ঠানের কৌশলকে কর্মীদের দক্ষতা ও কার্যকর কর্মসম্পাদনের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবেন, তাদের গুরুত্ব বাড়বে।

সব মিলিয়ে, ভবিষ্যতের এইচআর বিভাগ হবে তুলনামূলক ছোট, আরও দক্ষ এবং ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বেশি সম্পৃক্ত। এআই প্রশাসনিক কাজের বড় অংশ সামলাবে, অর্থ বিভাগ বেতন পরিশোধের দায়িত্ব নিতে পারে এবং ব্যবস্থাপকেরা প্রযুক্তির সহায়তায় কর্মীদের দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা করবেন। আর এইচআর মনোযোগ দেবে নেতৃত্ব, দক্ষতা, সাংগঠনিক সংস্কৃতি, কর্মীদের আচরণ ও প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা বাড়ানোর দিকে।

প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, প্রতিষ্ঠানের কৌশল বাস্তবায়ন শেষ পর্যন্ত মানুষের মাধ্যমেই হয়। তাই এআই এইচআরকে বিলুপ্ত করার চেয়ে বিভাগটিকে নতুনভাবে গড়ে তোলার পথ তৈরি করবে।

সূত্র: খালিজ টাইমস

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: