• বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১ | ১৩ কার্তিক ১৪২৮

BVNEWS24 || বিভিনিউজ২৪

কোভিড যুদ্ধে অন্তরালের নায়ক সার্ট

প্রকাশিত: ১৮:৫৫, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

আপডেট: ০৯:১৮, ২ অক্টোবর ২০২১

ফন্ট সাইজ
কোভিড যুদ্ধে অন্তরালের নায়ক সার্ট

কোভিড চলাকালীন বিভিন্ন সরকারি কার্য সম্পাদনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে কম্পিউটার ইনসিডেন্স রেন্সপন্স টিম (বিজিডি ই-গভ সার্ট)-এর সদস্যরা। সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মিটিং পরিচালনায় National gov.t video conferencing system পরিচালনা করা, ই-নথি ডেটা সেন্টারে হোস্ট করে পরিচালনা করা, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের টাকা বিতরণে সিমকার্ড এবং এনআইডি National Enterprise service bus-এর মাধ্যম সত্যতা যাচাই করা, বিদেশগামী যাত্রীর ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশনে Digital signature সম্বলিত অনলাইন ভেরিফিকেশন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে এই টিমটি। এছাড়াও দেশীয় ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ ‘বৈঠক’ তৈরি করেছে এই টিম, যা আইসিটি ডিভিশন, ফরেন মিনিস্ট্রি, ফিন্যান্স মিনিস্ট্রি, ই-জুডিশিয়ারি, ভূমি মন্ত্রণালয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশীয় এই সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যম সমস্ত ডেটা দেশেই থাকছে, পাশাপাশি ডেটা ব্রিচ বা হ্যাকিং থেকেও রক্ষা পাচ্ছে। 

বিশ্বব্যাপী মহামারি বাংলাদেশ সরকারকে বাধ্য করেছিলো ২৬ মার্চ, ২০২০ থেকে ধাপে ধাপে লকডাউন ও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে। সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের নিজস্ব কার্যক্রমও বন্ধ রাখতে হয়েছিলো। নতুন রোগের আবির্ভাবে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ছিলেন। চিকিৎসক ও নার্সরা এই রোগে আক্রান্ত শতশত মানুষ চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছিলেন।

লকডাউন ও সাধারণ ছুটি চলাকালীন যখন অধিকাংশ মানুষ ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ করছিলেন, তখন সার্ট-এর এই টিম সরকারকে ডিজিটালভাবে চলমান রাখতে স্বশরীরে শিফট–এ কাজ করছিলেন। তাদের তত্ত্বাবধানে জাতীয় ডাটাসেন্টার সচল রাখা হয়েছিলো, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সভাসমূহ পরিচালিত হয়েছিলো এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো সমূহে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিলো। 

মূলত ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতি অটল সংকল্পই তাদের অনুপ্রাণিত করেছিলো বলে জানান এই টিমের সদস্যরা। সেসময় অনেকেই কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে আইসিইউতে ছিলেন। তথ্য বলছে, এই টিমের সাতাশ জনেরও বেশি সদস্য কোভিড আক্রান্ত হন।

সবকিছু যখন অনলাইনকেন্দ্রিক হলো, তখন ব্যাংক ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো সমূহে সাইবার আক্রমণের ঘটনা বাড়ছিলো। এই টিমের সাইবার প্রতিরক্ষা কর্মীরা রাষ্ট্রের সাইবার স্পেসের সম্ভাব্য দুর্বলতা চিহ্নিত করতে তৎপর ছিলেন। বিশেষ করে টিকা কার্যক্রমে ব্যবহৃত সুরক্ষা অ্যাপে দক্ষিণ কোরিয়া, আমেরিকা, ভিয়েতনামসহ ২০ দেশের অবকাঠামো ব্যবহার করে অন্তত চার কোটি বার সাইবার আক্রমণ চালায় হ্যাকাররা। সার্ট-এর দক্ষ কর্মীবাহিনীর দক্ষতায় সেই হামলা প্রতিহত করা হয়। এছাড়াও দেশব্যাপী সাইবার দক্ষতা বাড়াতে সাইবার ড্রিলের আয়োজন করে সার্ট।

বাংলাভিশন ডিজিটাল-এর সংগে একান্ত আলাপচারিতায় বিজিডি ই-গভ সার্ট-এর প্রকল্প পরিচালক তারিক এম বরকতুল্লাহ

সাইবার প্রতিরক্ষা টিম হ্যাকারদের ব্যবহার করা ৯০২টি দুর্বলতা নিরসন করতে ৩২টি প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করেছে। তারা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে সাইবার হুমকির বিষয়ে ১৪০টি ‘থ্রেটইন্টেলিজেন্স’ সরবরাহ এবং হ্যাকারদের বিরুদ্ধে সাইবার সিকিউরিটি অবস্থান দৃঢ়তর করতে সহায়তা করেছে। এসব কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংকে হ্যাকিং ও অর্থ অপসারণের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি থেকে দেশকে রক্ষা করেছে।

বিজিডি ই-গভ সার্ট-এর প্রকল্প পরিচালক তারিক এম বরকতুল্লাহ বাংলাভিশন ডিজিটালকে বলেন, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের ডাটাসেন্টার এবং কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিমের (সিআইআরটি) সাইবার ডিফেন্স টিম সম্পূর্ণ সিংক্রোনাইজেশনে কাজ করেছে। কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন অ্যাপ্লিকেশন কর্তৃপক্ষ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এটিকে বিদেশে অ্যামাজন ক্লাউডে হোস্ট করাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে ডাটা সেন্টার ক্লাউডে স্থানীয়ভাবে এটি হোস্ট করার জন্য সর্বসম্মতি ক্রমে প্রস্তাব দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ স্থানীয়ভাবে ডাটা সেন্টারের ক্লাউডে হোস্ট করতে সম্মত হয়। প্রাথমিক কিছু চ্যালেঞ্জের পর সিস্টেমটি এখনও পর্যন্ত ভালোভাবে কাজ করেছে এবং সরকারি তহবিলের প্রায় নব্বই কোটি টাকা সাশ্রয় করেছে।

তিনি বলেন, বিসিসি এবং সার্ট দেশে তৈরি অ্যাপসমূহ উদ্বোধন করার জন্য তাদের প্রচেষ্টা একত্রিত করেছে। এর ফলে সরকারের নিজস্ব অনলাইন ভিডিও কনফারেন্সিং সিস্টেম, সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর জন্য অনলাইন নিয়োগ ব্যবস্থা সফলভাবে প্রস্তুত ও চালু হয়েছে। এই টিম বৈশ্বিক সাইবার ‘থ্রেটইন্টেলিজেন্স’ তথ্য সংগ্রহ করে রাষ্ট্রের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তার জন্য অভিযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যে (অ্যাকশনেবল ইন্টেলিজেন্স) রূপান্তর করতে নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার তৈরি করেছে। এই সতর্কতা অনেক প্রতিষ্ঠানকে হ্যাকারদের কাছে সংবেদনশীল তথ্য হারানোর অবমাননা থেকে বাঁচিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের জাতি ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর যাত্রায় দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে। ডেটা সেন্টার এবং সাইবার ডিফেন্স দল কঠোর পরিশ্রম করেছে এবং সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো উন্নয়ন করতে সরাসরি অবদান রেখেছে। এই অবদান আইটিইউ সাইবার সিকিউরিটি সূচকে ২৫তম স্থানে অগ্রসর হতে সহায়তা করেছে। সবশেষ এস্তোনিয়াভিত্তিক ই-গভর্নেন্স অ্যাকাডেমি ফাউন্ডেশনের করা জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সূচকে ২৭ ধাপ উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের। ৫৯.৭৪ নম্বর পেয়ে সার্ক দেশগুলোর মধ্যে প্রথম হয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বের ১৬০টি দেশের সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল উন্নয়ন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তৈরি করা এ সূচকে বাংলাদেশ এবার ৩৮তম স্থানে উঠে এসেছে। গত ডিসেম্বর ২০২০ সালের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৬৫তম। এটি শুধু সূচকে উন্নতি নয়, এই উন্নতি দেশের জন্য বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সরাসরি সহায়ক।

বিজিডি ই-গভ সার্টের এই প্রকল্প পরিচালক মনে করেন, দেশে এখনো সাইবার অ্যাওয়ারনেসের প্রচুর ঘাটতি আছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত সাইবার ড্রিলের আয়োজন করতে হবে। সাইবার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোর্স পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি এই খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সরকারের সুনজরও প্রত্যাশা করেন তিনি।

বিভি/এসআই/এসডি

মন্তব্য করুন: