ভারতের ৩ নদীর অতিপ্রবাহে প্লাবিত পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চল

ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ লাখ মানুষ ও ২,৩০৮টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, ৩০ আগস্ট পাকিস্তানের প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ একটি ক্ষয়ক্ষতির হিসাব প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, পাকিস্তানের রাভি, শতলুজ ও চেনাব নদীর পানি উপচে পড়ার কারণে খুব উচ্চ থেকে চরম মাত্রার বন্যা পরিস্থিতি আগামীদিনেও অব্যাহত থাকতে পারে। সম্প্রতি টানা মৌসুমি বৃষ্টিপাতে পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী দেশ ভারতও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আসন্ন সপ্তাহগুলোতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
এদিকে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ২৯ আগস্ট চেনাব নদীর বাঁধের একটি অংশ উড়িয়ে দিয়েছে, যাতে নদীর পানি চারপাশের জমিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং পাশের শহরগুলোতে বন্যার সম্ভাবনা কিছুটা হ্রাস পায়।
২৯ আগস্ট পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যার পানি দেশটির দ্বিতীয় বড় শহর লাহোরের আশপাশের এলাকায় প্রবেশ করে। গত ৪০ বছরে এই অঞ্চলে এমন দুর্যোগ আর দেখা যায়নি। লাহোরের একাধিক আবাসিক এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়ে, যার ফলে রাস্তাঘাট তলিয়ে যায় এবং ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা একটি আবাসিক প্রকল্প কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছেন।
এর আগে গুজরাট ও সিয়ালকোটে প্রবল স্রোতের কারণে বন্যার সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পানি কিছুটা নেমে গেছে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হচ্ছে। চলতি মৌসুমি বৃষ্টি ও বন্যায় পাকিস্তানে এ পর্যন্ত ৮২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলে দেশের প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ প্রায় ২৪ কোটি জনসংখ্যার বিশাল একটি অংশের বসবাস। সম্প্রতি এই অঞ্চলটি মারাত্মকভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে। অঞ্চলটি দেশের মূল কৃষিভূমি হওয়ায় সেখানে বড় ধরনের ফসলহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে দেশটির পূর্বাঞ্চল থেকে ১০ লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ভারতের দিক থেকে প্রবাহিত ৩টি বড় নদীর পানি এই অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিভি/আইজে
মন্তব্য করুন: